সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার যাচাইকৃত (ভেরিফায়েড) হিসাব থেকে শেয়ার করা এক বার্তায় শফিকুল আলম ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, বাণিজ্য ঘাটতি সংকুচিত হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে শুল্ক হ্রাস সুবিধা আদায়ে সফলভাবে আলোচনা করতে সক্ষম হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের পোশাক রপ্তানিকারকদের ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ তুলা রপ্তানি ক্রয় করার সক্ষমতা রয়েছে। যখন আমরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারব, তখন ওয়াশিংটনে ব্যয়বহুল লবিস্ট গোষ্ঠীর আর কোনো প্রয়োজন আমাদের থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে আমাদের পক্ষে কথা বলার জন্য সে দেশের রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী কৃষি লবিই যথেষ্ট হবে।"
তিনি আরও বলেন, "জাপান, চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহ এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো-সকলেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শক্তিশালী বাণিজ্যের মাধ্যমে সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। এখন আমরাও সেই পথ অনুসরণ করতে পারি।" শফিকুল আলম জানান, কয়েক মাস আগে খলিলুর রহমানকে রোহিঙ্গা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি (এবং পরবর্তীতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টা) হিসেবে নিয়োগের পর, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে তাকে ওয়াশিংটনে নতুন মার্কিন প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক গড়ার দায়িত্ব দেন।
খলিলুর রহমান, যিনি একজন প্রবীণ কূটনীতিক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে জাতিসংঘের সংস্থায় কয়েক দশক ধরে উচ্চ পর্যায়ে কাজ করেছেন, তিনি দ্রুতই আমেরিকান কৃষি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে সংযোগ স্থাপন করেন। প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশ কৃষি পণ্যের একটি বৃহৎ আমদানিকারক দেশ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সয়াবিন, গম, তুলা এবং ভুট্টার অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক।
তিনি বলেন, "মার্কিন কৃষি বাজারে প্রবেশাধিকার আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা আমাদের অন্যতম প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়।" তার মতে, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশকে খাদ্য আমদানির উৎস বহুমুখী করতেও সাহায্য করবে, যার ফলে নির্দিষ্ট কোনো দেশের ওপর খাদ্য নির্ভরতাকে সেই দেশ যেন 'অস্ত্র' হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, তা এড়ানো সম্ভব হবে।
খলিলুর রহমান বাংলাদেশি আমদানিকারক এবং মার্কিন কৃষি লবির মধ্যে এই সেতুকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছেন-যা ওয়াশিংটনের সাথে সাম্প্রতিক সফল শুল্ক আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শফিকুল আলম বলেন, "এছাড়াও, আমাদের প্রধান আলোচক হিসেবে তার সফল প্রচেষ্টা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে কার্যকরভাবে রক্ষা করে এমন প্রতিযোগিতামূলক শুল্ক হার নিশ্চিত করতে অবদান রেখেছে।"
প্রেস সচিব আরও জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে বাংলাদেশি আমদানিকারকরা এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন কৃষি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন-যা উভয় দেশের জন্য একটি "উইন-উইন" বা উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক ফলাফল এবং বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের একটি মাইলফলক।
তিনি বলেন, যেহেতু চীন তাদের বেশিরভাগ সয়াবিন ব্রাজিল থেকে সংগ্রহ করে, তাই বাংলাদেশি আমদানিকারকরা চীনা আমদানিকারকদের রেখে যাওয়া শূন্যস্থান অর্থপূর্ণভাবে পূরণ করতে পারে। শফিকুল আলমের মতে, এই ক্রমবর্ধমান কৃষি বাণিজ্য অংশীদারিত্বই এখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি লালিত স্বপ্ন।