শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৫৫তম বিজয় দিবসে বিএনপির ঐতিহাসিক ‘রোড শো’

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৮:১৩ পিএম

৫৫তম বিজয় দিবসে বিএনপির ঐতিহাসিক ‘রোড শো’
ছবি: File Photo

বাংলাদেশের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী এক বিশাল ও ব্যতিক্রমী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২০২৪ সালে দীর্ঘ রাজনৈতিক নিপীড়নের অবসান এবং কথিত ‘ফ্যাসিবাদ’ থেকে মুক্তির পর এবারের বিজয় দিবসকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ‘বিজয় মাসে বিজয়ের মশাল রোড শো’ শীর্ষক এই কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এবারের আয়োজনকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বর্ণাঢ্য, অর্থবহ এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণমূলক করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এই রোড শো শুরু হবে। ইতিহাসের পাতায় এই স্থানটির গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে এই বেতার কেন্দ্র থেকেই মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন। কালুরঘাট থেকে শুরু হয়ে মশাল শোভাযাত্রাটি চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানে গিয়ে প্রথম দিনের মতো শেষ হবে।

 

এই যাত্রার অন্যতম বিশেষত্ব হলো, এতে ১৯৭১ সালের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের জুলাই মাসের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ বা তরুণ বিপ্লবী যৌথভাবে বিজয়ের মশাল বহন করবেন। এটি প্রজন্মের সেতুবন্ধন এবং সংগ্রামের ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পরবর্তী দুই সপ্তাহ ধরে এই বিজয়ের মশাল দেশের প্রধান প্রধান বিভাগীয় শহরগুলো প্রদক্ষিণ করবে।

 

কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল এবং ফরিদপুর হয়ে এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অগ্রসর হবে। প্রতিটি বিভাগেই একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন জুলাই আন্দোলনের কর্মী মশাল বহন করবেন। যাত্রাপথে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান পরিদর্শন, দেশাত্মবোধক গান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে।

 

এছাড়া জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নির্বাচিত ভাষণ প্রচারের পাশাপাশি বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ‘৩১ দফা’ রূপরেখাও জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। এই পুরো অভিযানের মূল সুর বা থিম সং হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিনে এই রোড শো ঢাকায় এসে পৌঁছাবে এবং মানিক মিয়া এভিনিউতে এক বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে।

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এবারের বিজয় দিবসে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের শপথ পুনরায় গ্রহণ করতে হবে।

 

আগামী ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই আয়োজন একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে জনগণকে নতুন করে উদ্বুদ্ধ করবে। সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এই বার্তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।