মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর তানোরে গভীর কূপে আটকা শিশু সাজিদ, ৪০ ফুট খননের পরও মেলেনি সন্ধান

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:২০ পিএম

রাজশাহীর তানোরে গভীর কূপে আটকা শিশু সাজিদ, ৪০ ফুট খননের পরও মেলেনি সন্ধান
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পরিত্যক্ত একটি গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে উদ্ধারে চলছে বিরামহীন ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তিনটি ইউনিটে ভাগ হয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও এক্সকাভেটর ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন।

 

ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শিশুটির কোনো সাড়া না পাওয়ায় তার পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধারে তারা মূল কূপের সমান্তরালে প্রায় ৪০ ফুট গভীর গর্ত খনন করেছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে। মায়ের হাত ধরে ধান কাটা ফসলের ক্ষেত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত শিশু সাজিদ ওই অরক্ষিত গর্তের ভেতরে পড়ে যায়।

 

শিশুটির বাবা রাকিব ঢাকায় একটি জুট মিলের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই স্থানে গত বছর একটি গভীর নলকূপ বা ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে কাজটি অসম্পন্ন রেখেই গর্তটি আংশিক ভরাট করা হয়। পরবর্তীতে বর্ষার পানিতে মাটি ধসে জায়গাটি পুনরায় একটি বিপজ্জনক কূপে পরিণত হয়েছিল, যার শিকার হলো এই নিষ্পাপ শিশুটি।

 

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান, শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের লক্ষ্যে তাঁরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছেন। তিনটি ভারী মাটি কাটার যন্ত্র বা এক্সকাভেটর দিয়ে মূল কূপের পাশে বিশাল গর্ত খোঁড়া হয়েছে এবং এখন সুড়ঙ্গ তৈরি করে মূল কূপে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, "আমাদের দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

 

আমরা আশা করছি ৪০ ফুটের মধ্যেই শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তবে শিশুটি যদি আরও গভীরে পড়ে গিয়ে থাকে, তবে আমাদের বিকল্প পদ্ধতির কথা ভাবতে হবে, যদিও সেক্ষেত্রে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসতে পারে।" উদ্ধারকারী দলের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উৎসুক জনতার ভিড়। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে ভারী যন্ত্রপাতি চালনা করা কঠিন হয়ে পড়লেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

 

ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স ও প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, গতকাল বুধবার বা আজ বৃহস্পতিবার-কোনো সময়েই গর্তের ভেতর থেকে শিশুটির কান্নার শব্দ বা কোনো নড়াচড়ার আলামত পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩০ থেকে ৩৫ ফুটের মধ্যে শিশুটিকে পাওয়া না গেলে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষে লোহার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আরও গভীরে অভিযান চালানো হতে পারে। পুরো উপজেলাজুড়ে এখন শোক ও উৎকণ্ঠার ছায়া নেমে এসেছে এবং সাজিদের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন সবাই।