রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন। আদালতের এই নির্দেশনার ফলে দেশের অন্যতম পুরনো রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি এবং তাদের থেকে বেরিয়ে আসা অংশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে বড় ধরণের আইনি জটিলতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হলো। গত সপ্তাহে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এ অংশগ্রহণকারী ভোলার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে আইনি যুক্তি তুলে ধরেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। রিটে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। আদালতের রুলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই আইনি প্রশ্নের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। মামলার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রস্তুতি জোরদার করেছিল।
জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি গত ২৬ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২৪৩টি আসনে তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে। দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। অন্যদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে নতুন জোট ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’ (এনডিএফ)।
গত ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই জোটের নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু ১১৯টি আসনে ১৩১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। রিট আবেদনকারীর মূল বক্তব্য হলো, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় এই দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে বিগত সরকারগুলোর সময়ে তাদের ভূমিকা এবং বর্তমান রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাদের অংশগ্রহণের নৈতিক ও আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণেও বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের এই রুল নির্বাচনের সামগ্রিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন সবার দৃষ্টি আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা এবং নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের দিকে, যার ওপর নির্ভর করছে নির্বাচনে এই বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তির ভবিষ্যৎ।