রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সংগঠন ‘রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন’ (র্যাক)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান অতীতের নির্বাচন ব্যবস্থার সমালোচনা করতে গিয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হলফনামায় উল্লিখিত সম্পদের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের অসামঞ্জস্যের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
ড. মোমেন বলেন, ২০০৮ সালে হলফনামায় যে সম্পদের বিবরণ দেওয়া হয়েছিল এবং বাস্তবে যা পাওয়া গিয়েছিল, তার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান ছিল। তাঁর মতে, সেই সময়ে যদি দুর্নীতি দমন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করত এবং মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াত, তবে তখনই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতায় তা সম্ভব হয়নি।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন দুদক প্রধান। তিনি স্বীকার করেন যে, নির্বাচনের আগে খুব অল্প সময়ের মধ্যে কমিশনের একার পক্ষে প্রতিটি হলফনামা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সাংবাদিকদের ‘জনগণের অনুসন্ধানকারী’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, কোনো প্রার্থীর সম্পদের বিষয়ে সন্দেহ বা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হলে তা যেন দ্রুত কমিশনকে জানানো হয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা চাইব না হলফনামায় প্রদর্শিত হয়নি, এমন গোপন সম্পদের মালিকরা আগামী দিনে শাসক হিসেবে আবির্ভূত হোক।” রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ড. মোমেন তাঁর বক্তব্যে একটি ন্যায়নিষ্ঠ সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সবার জন্য সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। একটি দুর্নীতিমুক্ত ও সুবিচারপূর্ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
আগামীতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবেন, তাদের অবশ্যই সৎ, ন্যায়পরায়ণ এবং স্বচ্ছ হতে হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। র্যাকের সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হকের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহ্সান ফরিদ এবং সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীমসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দুর্নীতি প্রতিরোধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব এবং দুদকের সঙ্গে গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।