বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, বিএনপির শীর্ষ নেতার এই দেশে ফেরার ঘোষণাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তার এই প্রত্যাবর্তন আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ফজল ইলাহী আকবর এবং দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশে ফেরার পর তিনি তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের পাশেই ১৯৬ নম্বর অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে অবস্থান করবেন। ওই বাড়িটিকে তার বসবাসের উপযোগী করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
শুধু বাসস্থানই নয়, তারেক রহমান দেশে ফিরে যে কার্যালয় থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন, সেটিও প্রস্তুত করা হচ্ছে। গুলশান-২ এর ৮৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়টি বর্তমানে সংস্কার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, তারেক রহমানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার বাসভবন ও কার্যালয়কে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
ফজল ইলাহী আকবর সাক্ষাৎকারে আরও জানান, দেশে ফেরার আগে চলতি নভেম্বর মাসেই তারেক রহমানের সপরিবারে পবিত্র ওমরাহ পালনের একটি পরিকল্পনা ছিল। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন। তিনি জাতীয় নির্বাচনের পর ওমরাহ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। এরপর থেকে তিনি গত সতের বছর ধরেই সপরিবারে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।