সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটাধিকার ও মানবাধিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যের ডাক মঈন খানের

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৮:০৩ পিএম

ভোটাধিকার ও মানবাধিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যের ডাক মঈন খানের
ছবি: Collected

বিএনপির সিনিয়র নেতা ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এমন একটি দেশের রূপরেখা দিয়েছেন যেখানে জনগণের ভোটাধিকার, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার এবং অর্থনৈতিক অধিকার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত থাকবে। সোমবার (১০ নভেম্বর, ২০২৫) ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

 

বিএনপির সাংস্কৃতিক শাখা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর উদ্যোগে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে "রক্তাক্ত ৩৬ জুলাই গণবিপ্লব ও জাসাস" শীর্ষক একটি ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ড. মঈন খান এই অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, "শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ ছাড়া কোনো দেশেই সত্যিকার অর্থে রাজনীতি চলতে পারে না।"

 

সাম্প্রতিক 'জুলাই-৩৬ গণবিপ্লব'-এর প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে ড. মঈন খান বলেন, এই বিপ্লব কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। তিনি বলেন, "এটি ছিল লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশির আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের পুঞ্জীভূত ফল।" তিনি উল্লেখ করেন, "৫ আগস্ট জনরোষের যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তা সেই দীর্ঘ সংগ্রামেরই ফসল।" তিনি অভিযোগ করেন, "এই ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ বঞ্চনা, অধিকার হরণ, গুম, খুন, মিথ্যা মামলা ও হামলার শিকার হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা সে সময় নিজেদের বাড়িতেও থাকতে পারতেন না।"

 

বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, এই দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন ও অবিচার দেশে একটি বিস্ফোরক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। "সেই প্রেক্ষাপটে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। এটি একটি দেশলাইয়ের কাঠির মতো কাজ করেছিল, যা স্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়ে দেয় এবং ফলশ্রুতিতে দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানের দাবানল জ্বলে ওঠে। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার শেষ পর্যন্ত কাপুরুষের মতো দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।" তিনি এই আন্দোলনকে 'জুলাই-৩৬ অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস' বলে অভিহিত করেন।

 

এই আন্দোলনের সাফল্যের কৃতিত্ব নিয়ে ড. মঈন খান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি পর্যবেক্ষণ দেন যে, এই সাফল্যের জন্য শুধুমাত্র ছাত্রদের কৃতিত্ব দেওয়া সঠিক বিশ্লেষণ হবে না। তিনি বলেন, "বিএনপি এবং আরও প্রায় ৪৩টি রাজনৈতিক দল বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে সংগ্রাম করেছে। যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, তারা হামলা, মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা এবং তীব্র দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন।"

 

"প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার দূর থেকে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আন্দোলনকে পথ দেখিয়েছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বেই আমরা এই গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশ নিয়েছি," যোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, "এটা সত্য যে ছাত্ররা সামনে ছিল, কিন্তু এটা শুধু তাদের একার আন্দোলন ছিল না।

 

ফুটবলে এগারোজন খেলোয়াড় খেলে, কিন্তু গোল হয়তো একজনই করে-তার মানে এই নয় যে বাকিরা খেলেনি। একইভাবে, যারা এই আন্দোলনের সাফল্যের জন্য শুধু ছাত্রদের কৃতিত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেন, তারা হয়তো সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ করছেন না।" তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে জাসাসের অবদানেরও প্রশংসা করেন।