সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নন-এমপিও শিক্ষকদের আন্দোলনে সরকারের ‘উদাসীনতা’ লজ্জাজনক

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ০৮:২৯ পিএম

নন-এমপিও শিক্ষকদের আন্দোলনে সরকারের ‘উদাসীনতা’ লজ্জাজনক
ছবি: File Photo

নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তি করার দাবিতে শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘উদাসীনতা’কে অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থানরত শিক্ষকদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে শিক্ষা এখন জাতির মেরুদণ্ড হওয়ার পরিবর্তে জাতির 'অসুখে' পরিণত হয়েছে।

 

সরকারের আচরণ ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা দেখে মনে হচ্ছে, শিক্ষকদের এই দুরবস্থা নিরসনে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। সরকার স্বীকৃত সব নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার দাবিতে শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকরা যখন ফুটপাতে বসে অনশন করছেন, তখন প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে।

 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, সেই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে শিক্ষকরা আজ অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এটি কেবল সরকারের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্যই একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। শিক্ষা খাতের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য রিজভী আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করেন।

 

তিনি পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরাও সম্মানজনক বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পান। অথচ বাংলাদেশে বছরের পর বছর ধরে নন-এমপিও শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য দাবি জানিয়ে এলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। তিনি অবিলম্বে শিক্ষকদের দাবি মেনে নিয়ে নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার জোর আহ্বান জানান। রিজভী প্রশ্ন তোলেন, যারা জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর, তাদের কেন রাজপথে বসে থাকতে হবে?

 

বক্তৃতায় তিনি বিগত সরকারের সময় ভারতের একটি বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়ের অসম চুক্তির প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্ছা দেওয়া হচ্ছে, অথচ শিক্ষকদের জন্য অর্থের জোগান নেই।

 

অর্থ উপদেষ্টার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গরিব ও মেহনতি মানুষের স্বার্থ দেখার কথা থাকলেও তারা ধনীদের তোষণেই ব্যস্ত। কৃষি খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের ওপর ৮৩ শতাংশ কর আরোপের ফলে সারের দাম বাড়বে এবং কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন-যা প্রমাণ করে এই সরকার দরিদ্রবান্ধব নয়।

 

সবশেষে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি তাদের এখনো পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তারা বিশ্বাস করেন যে তার নেতৃত্বে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টারা জনগণের স্বার্থ বা আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাজ করছেন না। জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড একটি কার্যকর সরকারের পরিচয় হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।