বস্তিবাসী মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এবং বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কড়াইল বস্তির এই আগুন নিছক কোনো দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে স্বার্থান্বেষী মহলের কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা নাশকতা লুকিয়ে আছে, তা খুঁজে বের করা জরুরি।
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল অগ্নিকাণ্ডের পর ত্রাণ বিতরণেই দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না, বরং এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং এর মূল কারণ চিহ্নিত করতে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক তদন্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত এই মানুষগুলো এমনিতেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনযাপন করেন।
তার ওপর এমন ভয়াবহ দুর্যোগে তাদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে তারা এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি মানবিক সংগঠন হিসেবে সাধ্যমতো ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে থাকবে এবং তাদের পুনর্বাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। তিনি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষদেরও এই দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করছেন। জনদুর্ভোগ এবং প্রান্তিক মানুষের হাহাকার গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য তিনি সংবাদকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও সহনশীল সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাবেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর মতে, ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিগুলোতে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নগরায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে, যা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।