তিনি জানান, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেই কেবল তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে, তবে আপাতত ভ্রমণ করার মতো সুস্থতা তার নেই। গত ২৩ নভেম্বর হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন ৮০ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার নিউমোনিয়া শনাক্ত হয়।
বর্তমানে তিনি হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি সমন্বিত দলের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক প্রস্তুতি-যেমন ভিসা প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট দেশের হাসপাতালগুলোর সাথে যোগাযোগ এবং দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা-ইতোমধ্যে সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে।
এই প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য হলো, চিকিৎসকরা অনুমতি দিলেই যেন বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তাকে স্থানান্তর করা যায়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা পরিবারের রয়েছে।
বেগম জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস, ফুসফুসের সমস্যা এবং আর্থ্রাইটিসসহ নানাবিধ দুরারোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যাধিতে ভুগছেন। তার হৃৎপিণ্ডে একটি স্থায়ী পেসমেকার বসানো রয়েছে এবং অতীতে তার হার্টে রিং পরানো হয়েছিল। বহু বছর ধরে তিনি এসব জটিল শারীরিক সমস্যার সাথে লড়াই করছেন, যা তার বর্তমান অবস্থাকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলেছে।
এদিকে, শনিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আশু রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন দোয়া পরিচালনা করেন। জাতীয় রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের স্বাস্থ্যের অবনতিতে দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ পরিলক্ষিত হচ্ছে।