মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিকেল বোর্ড বর্তমানে তার শারীরিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ বিমানভ্রমণের ধকল সহ্য করার মতো শারীরিক সক্ষমতা এই মুহূর্তে তার আছে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় বিবে্য বিষয়।
মহাসচিব স্পষ্ট করে বলেন, "মেডিকেল বোর্ড যদি মনে করে তাকে বিদেশে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং তার অবস্থার যদি কোনো উন্নতি না হয়, সেক্ষেত্রে তারেক রহমান আর দেরি করবেন না। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই দেশে ফিরবেন।" এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পাসপোর্ট না থাকায় তিনি যদি 'ট্রাভেল পাস' বা ভ্রমণের বিশেষ অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন, তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কালক্ষেপণ না করে দ্রুততার সঙ্গে তা ইস্যু করবে। তবে উপদেষ্টা নিশ্চিত করেন যে, এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন বা অনুরোধ সরকারের কাছে আসেনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, সরকার কেবল তারেক রহমানের ফেরার বিষয়েই নয়, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়েও সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণভাবে তার পরিবার এবং মেডিকেল বোর্ডের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হলেই সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য এবং সরকারের নমনীয় অবস্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে ৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এবং অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন-সব মিলিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্বেগ ও প্রত্যাশা একবিন্দুতে এসে মিলেছে। মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই এখন নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথ এবং জিয়া পরিবারের এই সংকটময় মুহূর্তের পরবর্তী অধ্যায়।