শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-৯ আসনে ‘ফুটবল’ প্রতীকে লড়তে চান ডা. তাসনিম জারা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:১৫ পিএম

ঢাকা-৯ আসনে ‘ফুটবল’ প্রতীকে লড়তে চান ডা. তাসনিম জারা
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৯ নির্বাচনী আসনে নাটকীয় মোড় এবং আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ভোটের মাঠে ফিরেছেন আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির পর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আনন্দের মাঝেই তিনি তাঁর পছন্দের প্রতীক সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

 

তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় এই চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ জানিয়েছেন, তিনি আসন্ন নির্বাচনে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী এবং এজন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাবেন। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আপিল শুনানির রায় তাঁর পক্ষে আসার পর ডা. জারার চোখে-মুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশন আমার আপিল মঞ্জুর করেছে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে।

 

এটি গণতন্ত্রের জন্য এবং আমার ভোটারদের জন্য একটি বড় বিজয়।" তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি তারুণ্য ও উদ্দীপনার প্রতীক হিসেবে ‘ফুটবল’ মার্কাটি বেছে নিতে চান। তাঁর মতে, ফুটবল খেলা যেমন দলগত প্রচেষ্টা ও শৃঙ্খলার প্রতীক, ঠিক তেমনি তিনিও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও উন্নত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে চান। শীঘ্রই তিনি এই প্রতীক বরাদ্দের জন্য কমিশনের কাছে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

 

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই পর্বে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল ডা. জারাকে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মোট ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা সেই তালিকার দৈবচয়ন ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করেন। সেখানে দুইজন ভোটারের তথ্যে গরমিল পাওয়া গেছে-এই অভিযোগে তাঁর মনোনয়নপত্রটি প্রাথমিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।

 

তবে ডা. জারা শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, তাঁর জমাকৃত তথ্যে কোনো ভুল ছিল না এবং তিনি ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে যাবেন। শনিবারের শুনানিতে তিনি প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে, তাঁর জমাকৃত ভোটারদের সমর্থন তালিকা সঠিক ছিল। নির্বাচন কমিশন তাঁর যুক্তি ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে রিটার্নিং কর্মকর্তার বাতিলের আদেশ খারিজ করে দেয় এবং তাঁকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ডা. তাসনিম জারার মতো একজন উচ্চশিক্ষিত ও তরুণ প্রার্থীর নির্বাচনে ফিরে আসা ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রার্থিতা ও পছন্দের ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আইনি লড়াইয়ের এই বিজয় তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মাঝে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে, যা আগামী দিনগুলোর প্রচারণায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।