মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বিএনপির চেয়ে জামায়াত-এনসিপি জোট এগিয়ে

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বিএনপির চেয়ে জামায়াত-এনসিপি জোট এগিয়ে
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে যখন নানা বিশ্লেষণ চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নির্বাচনী মাঠে নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা জানালেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১১ আসনের আলোচিত প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের চেয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোট অনেকখানি এগিয়ে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ, প্রার্থীদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি বলেন, "আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে, বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আমাদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কার্যক্রমে পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।"

 

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘সিগন্যালিং’ বা পরোক্ষ ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ভূরি ভূরি অভিযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশন সে ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমনকি ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত অনেক প্রার্থীর মনোনয়নও রহস্যজনকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা স্বচ্ছ নির্বাচনের অন্তরায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন শেষ মুহূর্তে হলেও তাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।

 

বৈঠকে নির্বাচনী সহিংসতা এবং নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে এক ধরণের নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ। তিনি বলেন, "বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে আমরা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। তবে শত প্রতিকূলতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও আমরা মাঠ ছেড়ে যাইনি এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।"

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনের মাঠে থাকা এবং বিএনপির চেয়ে নিজেদের এগিয়ে থাকার এই দাবি ভোটের সমীকরণে নতুন বার্তা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে এমন অভিযোগ ও আত্মবিশ্বাসের বয়ান আগামী দিনের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।