তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমুন্নত রাখতে হলে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং সব ধরণের মতপার্থক্য ভুলে দেশগড়ার কাজে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তারেক রহমান ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, "হিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা জাতি ওই দিন প্রত্যক্ষ করেছে।
আমরা কোনোভাবেই ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী অরাজক পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চাই না।" তিনি সতর্ক করে দেন যে, রাজনৈতিক দল ও মতের মধ্যে ভিন্নতা থাকাটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, কিন্তু এই মতপার্থক্য যেন কখনোই জাতীয় বিভেদ বা সংঘাতের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। তাঁর মতে, বিভেদ ভুলে ঐক্যের ভিত্তিতে কাজ করলেই কেবল দেশের বর্তমান সংকটময় মুহূর্তগুলো অতিক্রম করা সম্ভব।
সামনে জাতির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সমস্যা ছিল এবং এখনো আছে, তবে আলোচনার মাধ্যমেই তার সমাধান খুঁজতে হবে। নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি আসন্ন নির্বাচনী পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করবে। এ সময় দলের নেতাকর্মীরা জনগণের দোরগোড়ায় যাবেন এবং তাঁদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনবেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আপনারা এমনভাবে সমালোচনা করুন, যা আমাদের ভুল শুধরে দিতে এবং দেশের মানুষের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে।" তিনি বিশ্বাস করেন, একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমই পারে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে।
বনানীর এই মতবিনিময় সভাটি কেবল আনুষ্ঠানিকতাই ছিল না, বরং এটি ছিল দলের নতুন নেতৃত্বের অধীনে বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ স্পষ্ট করার একটি প্রয়াস। প্রতিহিংসার পরিবর্তে সহনশীলতা, ধৈর্য এবং জনকল্যাণের এই বার্তা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।