সোমবার, জুন ৮, ২০২৬
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জুন, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

রোববার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ এক আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে আসামিদের এই সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হয়।

 

অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া এই বিচারিক কার্যক্রম দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি নজির স্থাপন করেছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।

 

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আদায়কৃত এই অর্থ ভুক্তভোগী শিশু রামিসার আইনি উত্তরাধিকারীরা ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন। আসামিরা এই অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে হস্তান্তরের সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মাত্র উনিশ দিনের মধ্যে পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই রায় প্রদান করা হয়েছে। মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত উনিশ মে সকালে পল্লবীতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। এর পরদিন ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

 

পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে তদন্ত শেষ করে ঘটনার মাত্র চার দিনের মাথায় চব্বিশ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এরপর এক জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং দুই জুন মাত্র এক দিনে আঠারো জন সাক্ষীর মধ্যে ষোলো জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করেন আদালত।

 

চার জুন উভয় পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত উনিশ মে সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না খাতুন তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে ডেকে নেন।

 

পরবর্তীতে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তার মা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

 

জরুরি সেবার মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করে।

 

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সকালে আসামিদের কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয় এবং বেলা এগারোটার পর বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার পেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।