হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বজন হারানো শোকাহত পরিবারগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক নিবিড় যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) উভয় পক্ষের এই জটিল সমঝোতা প্রক্রিয়ায় প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবী শিশির মনির তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নগদ আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এর আগে ঘোষিত অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি ও মানবিক সুযোগ-সুবিধাও প্রতিটি পরিবারের জন্য পুরোপুরি বহাল থাকবে।
এর আগে গত শনিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সন্তান হারানো এই পরিবারগুলোর আজীবন পাশে থাকার একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ভুক্তভোগী নবজাতকদের বাবা, মা, ভাই-বোন এবং তাদের ভবিষ্যৎ সন্তানেরা আজীবন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল এবং এর নিয়ন্ত্রণাধীন যেকোনো চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
তবে এই বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার আওতাভুক্ত হলেও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যয় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে নিজেদেরই বহন করতে হবে বলে উভয় পক্ষের চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যদের জন্য একটি সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে শিক্ষাগত এবং পেশাগত নিশ্চয়তা প্রদানেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই সমঝোতা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় মেধা ও যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে এই পরিবারগুলোর সদস্যরা আদ্-দ্বীন পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ পাবেন।
বিশেষ করে চিকিৎসাবিজ্ঞান বা মেডিকেল কলেজের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তাদের জন্য বিশেষ সম্মানজনক বৃত্তি প্রদান অথবা সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয় মওকুফ করার কাঠামোগত ব্যবস্থা রাখা হবে।
শুধু শিক্ষাই নয়, পরিবারগুলোর সদস্যদের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা যাচাই করে তাদের আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপযুক্ত ও সম্মানজনক চাকরিরও সুযোগ দেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বনামধন্য এই হাসপাতালটিতে অত্যন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে পর পর ছয়জন নবজাতকের অকাল মৃত্যুর ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং চিকিৎসায় চরম অবহেলার গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পরপরই দেশের স্বাস্থ্য প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার সার্বিক মান এবং কর্তব্যে গাফিলতির সুস্পষ্ট বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তরফ থেকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।
ওই নোটিশে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, পরবর্তী বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের চূড়ান্ত অনুমোদনপত্র বাতিল করা হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, এমন কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং দেশজুড়ে সচেতন নাগরিকদের প্রবল সমালোচনার মুখেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি বসে এই বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য আজীবন সুবিধাদি প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভূত এই সংকটের সমাধান টেনেছে।