একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সব ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের কথা পুনরায় ব্যক্ত করে তিনি ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা দুর্নীতির সঙ্গে আপসহীন নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার বিকেলে রাজধানী ঢাকায় জাতীয় সংসদের অর্থপরিকল্পনা বা বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে এক সংসদ সদস্যের উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক জবাবে সরকারপ্রধান এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা জানান।
সাধারণ নাগরিকের দোরগোড়ায় সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত সরকারি সেবা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর এক সুস্পষ্ট ও সময়োপযোগী বার্তাও প্রদান করেন তিনি।
জাতীয় সংসদের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। অধিবেশন চলাকালে কুমিল্লা-৯ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবুল কালাম প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দেশের সার্বিক জনস্বার্থ রক্ষা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সুনির্দিষ্ট সতর্কবার্তা ও প্রশাসনিক নির্দেশনাগুলোর বিস্তারিত তথ্য জাতীয় সংসদে জানতে চান।
নির্বাচিত ওই জনপ্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সেই শীর্ষ সম্মেলনে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের উদ্দেশে দেওয়া তাঁর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
জাতীয় সংসদে দেওয়া নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান, প্রশাসনিক প্রতিটি কার্যক্রমে যেকোনো মূল্যে স্বচ্ছতা ও কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলতে তিনি প্রতিরোধমূলক ও দমনমূলক-উভয় ধরনের কঠোর ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণের সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারপ্রধান বলেন, সাধারণ মানুষকে সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করতে হবে।
এর পরিবর্তে দ্রুত, বাস্তবসম্মত এবং সর্বাগ্রে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া সরকারি চাকরিতে নতুন লোকবল নিয়োগ, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলি এবং পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি বা অনৈতিক প্রভাব বিন্দুমাত্র সহ্য করা হবে না।
এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সততা, নিজস্ব মেধা এবং কর্মদক্ষতাই হবে যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার কাঠামোগত এবং গুণগত সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে সরকারপ্রধান আরও জানান, আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিক সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে তুলতে দ্রুততম সময়ে প্রযুক্তিগত রূপান্তর বা আধুনিকায়ন সম্পন্ন করতে হবে।
তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল একটি আধুনিক, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এর পাশাপাশি সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষায় কেউ আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যেন কোনোভাবেই সরকারি দপ্তরে গিয়ে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারা হয়রানি বা অহেতুক কালক্ষেপণের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর কথা দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।