শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে সাধারণ করদাতার টাকার ব্যবহার নিয়ে সরকারের নীতিগত দ্বিধা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে সাধারণ করদাতার টাকার ব্যবহার নিয়ে সরকারের নীতিগত দ্বিধা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ব্যাংক খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ বেহাত বা চুরি হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য।

 

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি জানান, দেশের পাঁচটি ইসলামি ধারার ব্যাংক আগে থেকেই গভীর সংকটে ছিল এবং গত বছরের শেষের দিকে প্রণীত একটি বিশেষ রূপরেখার আওতায় বর্তমানে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে।

 

ব্যাংক থেকে চুরি হওয়া বিশাল অঙ্কের এই ঘাটতি মেটাতে সাধারণ জনগণের করের টাকা ব্যবহার করা হবে কি না, তা নিয়ে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক একধরনের নীতিগত দ্বিধায় রয়েছে বলে গভর্নর উল্লেখ করেন।

 

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাধারণ মানুষ গভীর বিশ্বাসে ব্যাংকে টাকা রেখেছেন এবং একটি অসাধু গোষ্ঠী সেই টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এখন একজন রিকশাচালক, যিনি পণ্য কেনার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে কর প্রদান করেন, তার মতো সাধারণ করদাতার টাকার ঠিক কত অংশ এই ক্ষতিপূরণে ব্যবহৃত হবে, সেটি একটি বড় প্রশ্ন।

 

রাজস্ব খাত থেকে একসঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকা সরবরাহ করা সরকারের পক্ষে বাস্তবসম্মত নয়। তবে সামগ্রিকভাবে দেশের ব্যাংক খাতে বড় কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বিকল্প আর্থিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের জোর চেষ্টা চলছে।

 

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।

 

গভর্নর জানান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের সাফল্যের হার বেশ কম এবং এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তা সত্ত্বেও, যারা দেশের সম্পদ লুট করেছে তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

ইতিমধ্যে দশটির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পাচারকারীদের সম্পদ অবরুদ্ধ করার কাজ চলছে। একটি যৌথ তদন্ত দলের মাধ্যমে কিছু প্রাথমিক সাফল্য ও আংশিক অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

 

পাচারকারীরা বহু স্তরে লেনদেন গোপন করায় তাদের অনুসরণ করা অত্যন্ত জটিল হলেও দেশ-বিদেশে এই আইনি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ব্যাংক খাতে বর্তমানে কোনো বড় ধরনের তারল্য সংকট নেই জানিয়ে জনগণকে নিশ্চিন্তে লেনদেন করার আহ্বান জানান মোস্তাকুর রহমান।

 

নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে আগামী মাসের প্রথম দিন থেকে দেশে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর মতোই খুব সহজে ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে।

 

এর আগে, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

শুক্রবারের এই সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী ছাড়াও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি ও পানিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।