রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

'বাংলাদেশ ফার্স্ট', দেশের যেকোনো মহৎ অর্জন কেবলই জনগণের- সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম

'বাংলাদেশ ফার্স্ট', দেশের যেকোনো মহৎ অর্জন কেবলই জনগণের- সংসদে প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, সুদূরপ্রসারী ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান দেশের সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থকে অন্য যেকোনো কিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার বিষয়ে তাঁর সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় ও অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

 

শনিবার, ২৭ জুন দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিগত মন্তব্য করেন।

 

দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি তাঁর ভাষণে অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এবং জোরালো কণ্ঠে দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের একমাত্র এবং প্রধান লক্ষ্য হলো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ও এর কোটি কোটি মানুষের সার্বিক কল্যাণ সাধন করা।

 

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশের সাধারণ মানুষের দেওয়া পবিত্র রায়ের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ তাদের নিজেদের অধিকার আদায় ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার পরম দায়িত্ব দিয়েই বর্তমান সরকার ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এই মহান সংসদে পাঠিয়েছে।

 

জনগণের এই আস্থার মর্যাদা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন এবং নিজের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আদর্শিক অবস্থানের কথা সংসদে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তাদের রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সর্বদা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামক নীতি ও স্লোগানটিকে নিজেদের মূল চালিকাশক্তি ও রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে গভীরভাবে ধারণ করে আসছে।

 

রাষ্ট্রীয় যেকোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল সমীকরণ-সবক্ষেত্রেই এই দেশপ্রেমিক নীতি অক্ষরে অক্ষরে পালনের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

 

নিজের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে তিনি প্রতিনিয়ত দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার এবং তাদের ন্যায্য স্বার্থ যেকোনো মূল্যে রক্ষা করার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংসদকে নিশ্চিত করেন।

 

তাঁর মতে, একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে অগ্রাধিকার দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন মেগা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সরকারের সফল ও গতিশীল কূটনৈতিক তৎপরতার প্রসঙ্গ টেনে সংসদ নেতা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানান যে, এসব রাষ্ট্রীয় সফলতার পেছনে তাঁর নিজের বা তাঁর সরকারের কোনো ধরনের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া বা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ বিন্দুমাত্র জড়িত নেই।

 

রাষ্ট্রের যেকোনো ভালো অর্জন, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে যুগান্তকারী কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি কিংবা বিদেশের মাটিতে কোনো সফল রাষ্ট্রীয় সফরের মাধ্যমে যদি দেশের জন্য ইতিবাচক, সম্মানজনক ও কল্যাণকর কোনো কিছু অর্জিত হয়ে থাকে, তবে তার পুরো কৃতিত্ব কেবল দেশের সাধারণ মানুষের।

 

প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও জোরালো কণ্ঠে বলেন, এই সব মহৎ অর্জন একান্তই স্বাধীন বাংলাদেশের এবং এই দেশের পরিশ্রমী ও লড়াকু মানুষের। দেশের আপামর জনসাধারণের অকুণ্ঠ সমর্থন, অপরিসীম ধৈর্য ও অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণেই বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং দেশের জন্য সম্মানজনক কিছু ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হচ্ছে।

 

জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে সাম্প্রতিক সময়ে একটি অত্যন্ত সুস্থ, গঠনমূলক ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা ও উন্মেষ দেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে গভীর সন্তোষ ও আনন্দ প্রকাশ করেন।

 

সংসদে দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রদত্ত তাঁর বক্তব্যের প্রতি যে অকুণ্ঠ সমর্থন ও উৎসাহ জোগানো হয়েছে, সেজন্য তিনি বিরোধীদলীয় নেতাসহ মহান সংসদে উপস্থিত সব জনপ্রতিনিধির প্রতি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

 

তিনি মনে করেন, দলমত ও রাজনৈতিক আদর্শের ভিন্নতা ভুলে গিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার এই যে এক অনন্য ও ঐক্যবদ্ধ যাত্রা শুরু হয়েছে, সেখানে সকলের এই ইতিবাচক, সহনশীল ও সহযোগিতামূলক মনোভাব সত্যিই অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

 

দেশ গঠনের এই মহান কাজে সরকারি দল ও বিরোধী দলের এমন গঠনমূলক ঐক্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আগামী দিনের একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য এক নতুন রাজনৈতিক মাইলফলক স্থাপন করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

পরিশেষে তিনি উপস্থিত সকল সংসদ সদস্য ও দেশবাসীকে অত্যন্ত বিনীতভাবে স্মরণ করিয়ে দেন যে, সবার আগে এই মাতৃভূমি এবং এরপর এই দেশের সাধারণ মানুষ—এই চিরন্তন ও অকাট্য সত্যকে বুকে ধারণ করেই আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় নীতি পরিচালিত হবে।

 

কোনো অপশক্তি বা বৈশ্বিক চাপের কাছে মাথানত না করে, দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে একটি উন্নত, স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একযোগে কাজ করে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

তাঁর এই দূরদর্শী ও ঐক্যবদ্ধতার আহ্বানে সংসদের ভেতরে এক অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।