রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২৬
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জেরে গোটা আলেম সমাজকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জেরে গোটা আলেম সমাজকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন যে, সমাজের দু-একটি বিচ্ছিন্ন অঘটনের কারণে গোটা আলেম সমাজ এবং ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সম্পূর্ণ অবিচার ও অনভিপ্রেত।

 

শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত আইডিইবি ভবনে বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিসিনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

 

জাতীয় সংসদের সদস্য অধ্যাপক মাওলানা নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জাতীয় মুফাসসির সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন। সমসাময়িক ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে আলেম সমাজের ভূমিকা এবং তাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর সুমহান বার্তা মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেওয়ার মহান দায়িত্ব পালনের পূর্বে প্রত্যেক প্রচারককে অবশ্যই গভীর আত্মপর্যালোচনা করতে হবে।

 

তাফসীরের আসনে বসে এমন কোনো কথা বলা বা উপদেশ প্রদান করা উচিত নয়, যা বক্তার নিজের বাস্তব আমলের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। আগে নিজের জীবনে ইসলামী অনুশাসন ও চরিত্র মাধুর্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে, তবেই অন্যকে সঠিক পথের আহ্বান জানানোর নৈতিক অধিকার জন্মাবে।

 

ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধি এবং সামষ্টিক সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের সমাজে কওমি মাদরাসা, আলিয়া মাদরাসা, খানকা ও মারকাজের মতো বহুমুখী দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত সুনামের সাথে দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে।

 

এসব প্রতিষ্ঠানে যদি কোনো ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি বা দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়ও, তবে তার সাথে প্রচলিত সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক অবনতির তুলনা করা একেবারেই অমূলক।

 

ধর্মীয় ও আদর্শিক দিক থেকে ওই পশ্চিমা বা ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ব্যবস্থাগুলো কখনোই আলেম সমাজের আদর্শ হতে পারে না। ফলে অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে তুলনা টেনে মাদরাসা শিক্ষাকে খাটো করার কোনো সুযোগ নেই।

 

তিনি গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সমাজের কোথাও কোনো বিচ্ছিন্ন বা অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলেই একটি কুচক্রী মহল সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুরো ওলামা সমাজ এবং শত বছরের পুরোনো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে সামান্যতম দ্বিধাবোধ করে না।

 

কেন কেবল আলেম সমাজ ও মাদরাসা শিক্ষার ওপর এমন কঠোর কদর্য সমালোচনা ধেয়ে আসে, তার একটি গভীর রূপক ব্যাখ্যা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, সমাজের চোখে সাদা কাপড়ে সামান্য দাগ লাগলেও তা যেমন খুব দ্রুত চোখে পড়ে এবং প্রকটভাবে ভেসে ওঠে, তেমনি সৎ ও চরিত্রবান মানুষের সামান্য ত্রুটিও চারপাশের মানুষের নজরে সহজে ধরা পড়ে।

 

পক্ষান্তরে, যাদের সার্বিক চরিত্র ও কর্মকা্ল নৈতিকতার অন্ধকার বা কালিমায় আবৃত, সেখানে অপরাধের হাজারো দাগ পড়লেও তা বাইরে থেকে সহজে দৃশ্যমান হয় না। কালো কাপড়ে যেমন কোনো দাগই আলাদা করে চেনা যায় না, তেমনি নীতিহীন বা চরিত্রহীনদের অপকর্ম সমাজ সহজে খুঁজে পায় না বা আমলে নেয় না।

 

কিন্তু যারা সাদা পোশাক পরিধান করেন এবং নিজেদের জীবনকে ধর্মীয় অনুশাসনে গড়ে তোলেন, তাদের ক্ষেত্রে সামান্য ভুলেরও ক্ষমা মেলে না। এই বাস্তব বিষয়টি অনুধাবন করে আলেম সমাজ ও ধর্মীয় বক্তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানান তিনি, যেন কোনো তুচ্ছ ঘটনা বা ব্যক্তিগত বিচ্যুতির সুযোগ নিয়ে কেউ সমগ্র ধর্মীয় অঙ্গন ও ইসলামি শিক্ষার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে না পারে।