মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে প্রাণঘাতী ইবোলার প্রাদুর্ভাব, মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে প্রাণঘাতী ইবোলার প্রাদুর্ভাব, মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে
ছবি: AA

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে, যা ওই অঞ্চলে এক গভীর স্বাস্থ্য সংকটের জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

 

রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালি থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ব্যাপক নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও প্রাদুর্ভাবটির দ্রুত বিস্তার রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিস্তারিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, গত ১৫ মে দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলার এই প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ১০১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

 

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে এই রোগে আক্রান্তদের সামগ্রিক মৃত্যুর হার ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ বলে প্রাক্কলন করেছেন। সর্বশেষ হালনাগাদ করা তথ্য ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হওয়া রোগীর মোট সংখ্যা ৫৫০ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

ভয়াবহ এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেশটির নির্দিষ্ট কোনো এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা দ্রুতগতিতে অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ইতিমধ্যেই এটি ইতুরি, উত্তর কিভু এবং দক্ষিণ কিভু প্রদেশের অন্তত ২৫টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে।

 

তবে এই হতাশার মাঝেও চিকিৎসা ব্যবস্থার সফলতার কিছুটা প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসাধীন সাতজন রোগী এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

 

এই নতুন সুস্থ হওয়াদের নিয়ে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৯ জন রোগী আরোগ্য লাভ করতে সক্ষম হলেন। বর্তমান প্রাদুর্ভাবটির প্রধান উপকেন্দ্র বা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ইতুরি প্রদেশ।

 

দেশজুড়ে ভাইরাসে আক্রান্ত ২৫টি স্বাস্থ্য অঞ্চলের মধ্যে কেবল এই একটি প্রদেশেই ১৭টি অঞ্চল অবস্থিত, যা সেখানকার লাখো মানুষের জীবনে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

 

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, এবারের এই প্রাদুর্ভাবটি ইবোলা ভাইরাসের ‘বুন্দিবুগিও’ নামক একটি বিশেষ প্রজাতির মাধ্যমে ছড়াচ্ছে এবং এটি সপ্তাহভিত্তিক পরিসংখ্যানে এখনও একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রেখেছে।

 

মহামারি বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি সংক্রমণের রেখচিত্রে যে সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা বা পতন পরিলক্ষিত হয়েছে, তা ভাইরাসের প্রকোপ কমার কোনো প্রকৃত লক্ষণ নয়, বরং গবেষণাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের কারণেই এমনটা দেখা গেছে।

 

এমন এক চরম সংকটজনক ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ভাইরাসের বিস্তার রোধে নিবিড় নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

 

একই সঙ্গে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রাদুর্ভাবের ওপর নিবিড় নজর রাখছে, কেননা এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিস্তার যে কোনো সময় বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

 

- আনাদোলু এজেন্সি