মঙ্গলবার (৯ জুন) মোজাম্বিক সরকারের পক্ষ থেকে এই মর্মান্তিক ও সংবেদনশীল তথ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির তথ্য দপ্তরের দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের মোসেল বে এলাকায় গত মে মাসের শেষের দিকে এই আকস্মিক অভিবাসী বিরোধী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে তা দ্রুত আশপাশের অন্যান্য অঞ্চলেও বিস্তৃত হয়, যা সেখানে বসবাসরত শত শত বিদেশি নাগরিকের জীবনকে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নিহত নাগরিকদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং উগ্র সহিংসতার শিকার নিজ দেশের অন্য বাসিন্দাদের জীবন রক্ষার্থে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে মোজাম্বিক প্রশাসন।
মোজাম্বিক সরকারের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় নিহত নয়জনের মধ্যে অন্তত ছয়জন ভুক্তভোগীর মরদেহ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় অবিলম্বে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের সাথে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
একই সাথে ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশে চলমান এই নৃশংস ও উগ্র জাতিবিদ্বেষী সহিংসতার জেরে এ পর্যন্ত সাত শতাধিক মোজাম্বিকান নাগরিককে জরুরি ভিত্তিতে নিজেদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
মোসেল বে এলাকার ওই ভয়াবহ হামলায় প্রায় আটশত মোজাম্বিকান নাগরিক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে বসবাসরত বিদেশি পরিবারগুলোর ওপর আকস্মিক হামলার পর তারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন, যা এই অঞ্চলে এক নতুন মানবিক সংকট তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও বিপন্ন নাগরিকদের উদ্ধার করতে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত মোজাম্বিকের কূটনৈতিক ও কনস্যুলার মিশনগুলো যৌথভাবে সার্বক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতা এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
উদ্ধার অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুসহ আরও ১৬৯ জন মোজাম্বিকান নাগরিককে সফলভাবে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় বিভিন্ন সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা এই স্থানীয় বনাম বিদেশি অভিবাসী দ্বন্দ্ব এবং অর্থনৈতিক সংকটের জেরে তৈরি হওয়া জাতিবিদ্বেষী সহিংসতা পুরো আফ্রিকার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন করে গভীর এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে।