বুধবার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বরাত দিয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। বর্তমানে এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন সশস্ত্র হামলাকারীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তল্লাশি ও চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ক্লিভল্যান্ড এলাকার একটি জ্বালানি পাম্পের কাছাকাছি স্থানে সাদা রঙের একটি টয়োটা কোয়ান্টাম গাড়ি থেকে দশজনেরও বেশি সন্দেহভাজন সশস্ত্র ব্যক্তি নেমে আসে।
এরপর তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন দিক থেকে ওই ঘনবসতিপূর্ণ বস্তির ভেতরে প্রবেশ করে। এলাকার ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তারা কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে চতুর্দিক থেকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে।
নারকীয় এই তাণ্ডব শেষে হামলাকারীরা দ্রুত তাদের আগের সেই গাড়িতে করেই অপরাধস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। স্থানীয় পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে ভয়াবহ এই গোলাগুলির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের বিশেষ দল এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা ইউনিট।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে আটজন পুরুষ ও তিনজন নারী প্রাণ হারান। পরবর্তীতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা আরও একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
এছাড়া হামলায় মারাত্মকভাবে আহত অন্তত নয়জনকে উদ্ধার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কাদের নির্দেশে নিরীহ মানুষের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রকৃত কারণ ও অপরাধীদের উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে পুলিশের একটি নিবিড় ও বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ডপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ জন মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বিশেষ করে দেশের অনুন্নত অঞ্চল, দরিদ্র এলাকা ও বস্তিগুলোতে গ্যাং সংঘাত, আধিপত্য বিস্তার এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে এমন গোলাগুলি ও প্রাণহানির ঘটনা খুবই সাধারণ একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
এর আগে গত বছরও জোহানেসবার্গের একটি পানশালায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের অতর্কিত হামলায় নয়জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। সাউথ আফ্রিকান গান ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ত্রিশ লাখ বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং উদ্বেগের বিষয় হলো, এর পাশাপাশি প্রায় সমসংখ্যক অবৈধ বা লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে ছড়িয়ে রয়েছে, যা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকরা।