রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসার বর্ধিত ফি আরও এক বছর বহাল রাখলেন ট্রাম্প

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:১১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসার বর্ধিত ফি আরও এক বছর বহাল রাখলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফিয়ের ওপর অতিরিক্ত এক লাখ মার্কিন ডলার আরোপের বহুল আলোচিত নীতিটির মেয়াদ আরও এক বছর বৃদ্ধি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রশাসনিক ভবন হোয়াইট হাউসের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের প্রবেশের পথ সংকুচিত করার এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির প্রযুক্তি খাতসহ সামগ্রিক আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নতুন করে এক গভীর অনিশ্চয়তা ও তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

 

এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি এবং গবেষণা খাতের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই বিশেষ ভিসা কর্মসূচির আওতায় দেশটির বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা সুনির্দিষ্ট সরকারি ফি পরিশোধের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অত্যন্ত মেধাবী ও দক্ষ বিদেশি জনশক্তিকে কয়েক বছরের চুক্তিতে বৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে থাকে।

 

সাধারণ নিয়মানুযায়ী, এই ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষেত্রবিশেষে দুই হাজার থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত সরকারি ফি দিতে হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এই আইনি কাঠামোর চরম বিরোধিতা করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

তাঁর অভিযোগ, দেশটির প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলো অভ্যন্তরীণ যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের ন্যায্য সুযোগ না দিয়ে তুলনামূলক কম বেতনে কাজ করানোর হীন উদ্দেশ্যে এই ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। এই যুক্তি দেখিয়েই তিনি আবেদন ফি নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে এক লাখ ডলারে উন্নীত করার পক্ষে অনড় অবস্থান গ্রহণ করেন।

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো এক বিশেষ নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এইচ-১বি ভিসার এই মাত্রাতিরিক্ত ফি আরোপ করেছিলেন। সেই প্রাথমিক নির্বাহী আদেশের নির্ধারিত মেয়াদ চলতি মাসেই শেষ হওয়ার কথা ছিল।

 

কিন্তু আইনি এবং রাজনৈতিক নানা বিতর্কের মুখেও সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বমুহূর্তে তিনি আবারও একই সিদ্ধান্তের ওপর মেয়াদ বৃদ্ধির সিলমোহর দিলেন। তবে প্রেসিডেন্টের এই বিতর্কিত পদক্ষেপটি মার্কিন বিচার বিভাগের আদালতে চরম আইনি বাধার মুখে পড়েছে।

 

গত জুন মাসে বোস্টনের একটি আপিল আদালত এই সংক্রান্ত এক জটিল আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা শুরু করে, যেখানে একজন ফেডারেল বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা এই বর্ধিত ফি-কে সরাসরি বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে এমন অর্থ আদায় থেকে বিরত থাকার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন।

 

কেবল আদালতের সাধারণ স্থগিতাদেশই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ও অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্সও এই অতিরিক্ত ফি আরোপের বিরুদ্ধে পৃথক একটি আইনি মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে সেই মামলাটিও মার্কিন আপিল আদালতে সক্রিয়ভাবে বিচারাধীন রয়েছে।

 

দেশটির বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত এই ফি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকলে বিশেষ করে সিলিকন ভ্যালির নতুন ও মাঝারি উদ্যোগগুলো সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির শিকার হবে এবং বিশ্বমঞ্চে মার্কিন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনী সক্ষমতা প্রতিযোগীদের তুলনায় ক্রমশ পিছিয়ে পড়বে।

 

ফলে দেশটির গোটা বাণিজ্যিক সম্প্রদায় ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অতিরিক্ত আর্থিক বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত নতুন এই নির্দেশনায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি রাখা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত যেসকল বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে পরবর্তীতে এইচ-১বি ভিসা মর্যাদায় রূপান্তরের আবেদন করবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত এক লাখ ডলারের বর্ধিত ফি প্রযোজ্য হবে না।

 

একইসঙ্গে পূর্বে মঞ্জুরিকৃত বিদ্যমান কোনো এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ নবায়ন বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এই নতুন আর্থিক বোঝা বহন করতে হবে না। যদিও এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি মূলত মার্কিন শ্রমবাজারে যোগ্য ও দক্ষ অভ্যন্তরীণ জনবলের ঘাটতি পূরণে দীর্ঘদিন ধরে এক অনন্য ভারসাম্য রক্ষা করে আসছে, তবুও প্রশাসনের এই চরম সুরক্ষাবাদী অবস্থান বিশ্বজুড়ে দক্ষ অভিবাসী কর্মী ও মার্কিন প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎকে এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

 

- রয়টার্স