শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন মানচিত্রে হরমুজ প্রণালীকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ দাবি ট্রাম্পের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম

নতুন মানচিত্রে হরমুজ প্রণালীকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ দাবি ট্রাম্পের
ছবি : Collected

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন এক নতুন ও অভূতপূর্ব মোড় নিয়েছে।

 

সাবেক ও বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক দৃশ্যপটের অন্যতম শীর্ষ ও প্রতাপশালী ব্যক্তিত্ব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথের একটি মানচিত্রের চিত্র প্রকাশ করেছেন।

 

উক্ত ছবিতে হরমুজ প্রণালিকে স্পষ্টভাবে 'ট্রাম্প প্রণালি' নামে চিহ্নিত করে সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক নতুন ভূখণ্ড হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপন করা হয়। বিশ্ব রাজনীতিতে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এই ঘটনার সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 

কারণ ইরান সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু যৌক্তিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আগামী মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের জন্য এই স্পর্শকাতর জলপথটি পুনরায় সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়ার এক যুগান্তকারী চুক্তি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল।

 

তেহরানের সেই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার পরিবর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বিতর্কিত, ইঙ্গিতপূর্ণ ও উসকানিমূলক বার্তাটি সর্বসম্মুখে প্রকাশিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শান্তিকামী কূটনৈতিক মহলে নতুন করে চরম উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

 

বিশ্ব অর্থনীতির মূল ধমনি খ্যাত এই জলপথের ওপর কোনো একতরফা মার্কিন মালিকানা দাবি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকেই মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে না, বরং সমগ্র বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যকে এক গভীর ও অনিশ্চিত বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

 

অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ও পরোক্ষ দীর্ঘ কূটনীতির পর্ব সমাপ্ত করে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের সংবাদ পাওয়া গেছে। নিউইয়র্কে আয়োজিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বহুল আলোচিত ও আন্তর্জাতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ অধিবেশনে যোগদান এবং সেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিভিন্ন পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা সফলভাবে শেষ করার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ত্যাগ করে নিজ রাজধানী তেহরানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।

 

জাতিসংঘে প্রদত্ত তাঁর বলিষ্ঠ, দূরদর্শী ও যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং পূর্বে প্রদান করা সামরিক হুমকির আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের আলোকে কঠোর ও উপযুক্ত জবাব দেন।

 

তবে একই সাথে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অব্যাহত অর্থনৈতিক চাপ, অবরোধ ও রাজনৈতিক উসকানি থাকা সত্ত্বেও তেহরান কখনোই শান্তির পথ এবং দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনার দরজাকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি।

 

পেজেশকিয়ানের এই সময়োপযোগী বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে এটিই পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, নিজেদের জাতীয় আত্মমর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার প্রশ্নে অটল থাকার পাশাপাশি তেহরান এখনো আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও সুসংগঠিত আলোচনার মাধ্যমেই যেকোনো জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকটের টেকসই ও রক্তপাতহীন নিরসনে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং দুই পরাশক্তির দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও নীতিগত শর্তাবলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন দেশটির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

 

তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরান কেবল একটি একতরফা বা অন্যায্য শর্তের অধীনে চুক্তি সম্পাদন করতে সম্মত নয়; বরং বিশ্ববাণিজ্যের প্রধান জলপথটি উন্মুক্ত করার বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও দায়িত্বশীল, বাস্তবমুখী ও গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

 

আরাগচির বিশদ বক্তব্য অনুযায়ী, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অন্যায্য সমুদ্র ও নৌ অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেয়, ইরানের জাতীয় অর্থনীতির ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করা তেল সংক্রান্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞাগুলো চিরতরে বাতিল করে এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে লেবাননের নিরীহ মানুষের ওপর চলমান বিধ্বংসী সামরিক সংঘাত নিরসনে একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে রাজি হয়, তবে ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি সকল দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে।

 

এর পাশাপাশি, এই সুনির্দিষ্ট নীতিগত দাবিগুলো পূরণ হলে উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা ঐতিহাসিক পারমাণবিক আলোচনা ও যৌথ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করতেও তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

 

তেহরানের এই সুস্পষ্ট বার্তা প্রমাণ করে যে, তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে ব্যাহত করতে চায় না, বরং নিজেদের ন্যায্য অর্থনৈতিক অধিকার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল অগ্রাধিকার।

 

হরমুজ প্রণালি ও শীর্ষ পরাশক্তিগুলোর মধ্যে চলমান এই জটিল কূটনৈতিক মারপ্যাঁচের পাশাপাশি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রতিদিন আরও বেশি উত্তপ্ত ও সংঘাতময় হয়ে উঠছে। সম্প্রতি এই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে নতুন উত্তেজনার মাত্রা যোগ করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক নতুন সামরিক তৎপরতা।

 

প্রতিবেশি দেশ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও রাজকীয় সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করা হয়েছে যে, ইয়েমেনের অভ্যন্তর থেকে সৌদি ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে নিপুণভাবে নিক্ষেপ করা হুথি বিদ্রোহীদের একটি অত্যন্ত মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝপথেই সফলভাবে সনাক্ত করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

 

এই ভয়াবহ সামরিক ঘটনার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক জোট উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি তীব্র ক্ষোভ ও গভীর নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

 

সংস্থাটির নীতি নির্ধারকদের পক্ষ থেকে জারিকৃত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের অপরিনামদর্শী ও উসকানিমূলক রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্য এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এক চরম ও প্রত্যক্ষ হুমকি স্বরূপ।

 

আঞ্চলিক এই নতুন সামরিক সংঘাত বিশ্ব সম্প্রদায়কে পুনরায় এক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আঞ্চলিক রাজনীতির এই জটিল, মারমুখী ও চরম মেরুকরণের মধ্যেও প্রতিবেশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং কৌশলগত নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অবস্থানসম্পন্ন রাষ্ট্র ইরাক জানিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিকভাবে আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েও তারা প্রতিবেশি দেশ ইরানের সাথে নিয়মিত আকাশপথ ও বেসামরিক বিমান যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

বিশেষভাবে, মার্কিন কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বিভিন্ন ইরানি এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ আইনি ও প্রশাসনিক ছাড় লাভের উদ্দেশ্যে ইরাকি সরকারের উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা সরাসরি মার্কিন ওয়াশিংটন প্রশাসনের সাথে নিবিড় ও ধারাবাহিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

 

ইরাকের দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্তারা মনে করেন, প্রতিবেশি দুই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির দ্বন্দ্বে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

 

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নীতি মেনে চলার পাশাপাশি নিজেদের অর্থনৈতিক প্রয়োজন ও দ্বিপাক্ষিক সৌহার্দ্য স্বাভাবিক রাখতে বাগদাদ এখন সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সচেতনতা ও কৌশলী দরকষাকষির পথ বেছে নিয়েছে।

 

একদিকে যখন মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান প্রধান আন্তর্জাতিক ভূখণ্ডে পারমাণবিক চুক্তি ও সমুদ্রপথের প্রবেশাধিকার নিয়ে বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর মধ্যে মহানির্ধারণী ক্ষমতা প্রদর্শনের খেলা চলছে, অন্যদিকে অধিকৃত ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ জোরপূর্বক দখলের অন্যায্য প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অন্যায়ভাবে বসবাসকারী চরমপন্থী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের আগ্রাসী আচরণ দিনে দিনে আরও বেশি বেপরোয়া ও সহিংস রূপ ধারণ করছে।

 

স্থানীয় মানবাধিকার রক্ষা সংস্থাসমূহের সরেজমিন তথ্যানুযায়ী, পশ্চিম তীরে বসবাসকারী নিরীহ ফিলিস্তিনি সাধারণ নাগরিকদের প্রাকৃতিক জীবনধারণের প্রধান অবলম্বন অর্থাৎ পানের উপযোগী বিশুদ্ধ পানির প্রাকৃতিক উৎস ও যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত তাদের ঐতিহ্যবাহী জলাশয়গুলো জোরপূর্বক ও বেআইনিভাবে নিজেদের অধীনে নেওয়ার ধারাবাহিক অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা।

 

ফিলিস্তিনি জনগণের ঐতিহ্যবাহী কৃষি ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন সাধারণ জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত এই বেআইনি দখলাভিযান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের শামিল।

 

একদিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অশুভ সামরিক আস্ফালন আর অন্যদিকে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই ধারাবাহিক চক্রান্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অসীম সামাজিক অনিশ্চয়তা ও গভীর মানবীয় বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

 

সার্বিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সাম্প্রতিক ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের অসংবেদনশীল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগরের উন্মুক্ত জলপথ, কিংবা ইয়েমেন, সউদী আরব ও ফিলিস্তিনের সীমান্ত পর্যন্ত সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল এখন এক অতি জটিল ও বিপজ্জনক ভূ-রাজনৈতিক দাবার বোর্ডে পরিণত হয়েছে।

 

একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একপাক্ষিক ও দায়িত্বহীন ভৌগোলিক দাবি এবং অন্যদিকে ইরানের সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক শর্তাবলি-উভয় দেশকেই যেকোনো ধ্বংসাত্মক সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মূলধারায় ফিরিয়ে আনা আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংকট যদি দ্রুত জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আলোচনার মাধ্যমে নিরসন করা সম্ভব না হয়, তবে কেবল হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যই অচল হবে না, বরং সমগ্র বিশ্বের রাজনৈতিক পরিবেশ, তেল অর্থনীতি ও সামরিক ভারসাম্য এক অপূরণীয় ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।

 

শান্তিকামী বিশ্ব সমাজ এখন অত্যন্ত উৎকণ্ঠা ও রুদ্ধশ্বাসে পর্যবেক্ষণ করছে, সামনের দিনগুলোতে উসকানিমূলক বৈরী বক্তব্য জয়ী হয়, নাকি সুবিবেচনাপ্রসূত শান্তিকামী কূটনীতি বিশ্বকে এক নিশ্চিত রক্তক্ষয়ী মহাযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়।

 

- এবিসি নিউজ