বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেস সচিবের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে ‘স্বামী’ সম্বোধনে হাস্যরস

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

প্রেস সচিবের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে ‘স্বামী’ সম্বোধনে হাস্যরস
ছবি : Collected

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু হোয়াইট হাউসের জেমস এস. ব্র্যাডি প্রেস ব্রিফিং রুম বরাবরই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তীক্ষ্ণ নজরদারিতে থাকে। এখানে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য এবং প্রকাশভঙ্গি মুহূর্তের মধ্যে সারাবিশ্বের সংবাদমাধ্যমে প্রধান শিরোনাম হয়ে ওঠে।

 

এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ঐতিহাসিক ও স্পর্শকাতর মঞ্চে প্রথমবারের মতো উপস্থিত হয়ে এক অভাবনীয় ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নবনিযুক্ত হোয়াইট হাউস প্রেস সচিব কেটি জ্যাকারিয়া।

 

মঙ্গলবার নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এক পর্যায়ে ভুলবশত নিজের বস, অর্থাৎ খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই ‘স্বামী’ হিসেবে সম্বোধন করে বসেন।

 

অত্যন্ত গুরুগম্ভীর পরিবেশে হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেটি জ্যাকারিয়া যে তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা, উপস্থিত বুদ্ধি ও অসামান্য পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা উপস্থিত অভিজ্ঞ সাংবাদিকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের দায়িত্বটি বিশ্বের অন্যতম কঠিন, সংবেদনশীল ও চাপযুক্ত পেশা হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। প্রশাসনের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরার এই গুরুদায়িত্বে সদ্য নিয়োগ পাওয়া কেটি জ্যাকারিয়া একাধারে চার সন্তানের জননী।

 

স্বভাবতই তার এই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের অন্যতম প্রধান কৌতূহল ছিল তার ব্যক্তিগত জীবনের দায়িত্ববোধ ও পেশাগত জীবনের অপরিসীম চাপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা নিয়ে।

 

একজন সাংবাদিক অত্যন্ত প্রাসঙ্গিকভাবেই তার কাছে জানতে চান, হোয়াইট হাউসের মতো এমন একটি অত্যন্ত ব্যস্ত, সময়সাপেক্ষ এবং সংবেদনশীল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি কীভাবে নিজের বিশাল পরিবারের দেখভাল করবেন।

 

এই জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই ঘটে যায় সেই অনভিপ্রেত ঘটনা। আবেগ ও বাস্তবতার সংমিশ্রণে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে কেটি জ্যাকারিয়া বলেন, “আমার সন্তানদের সঙ্গে সারাদিন শেষে অন্তত সন্ধ্যাটা না কাটানোর ভাবনাটি আমার কাছে পুরোপুরি অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়।

 

তাই আমার প্রেসিডেন্ট দুঃখিত, আমার স্বামী এখানে বাইরে অপেক্ষা করছেন।” অবচেতন মনে মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া এই বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই পুরো ব্রিফিং রুমে একযোগে তুমুল হাসির রোল পড়ে যায়।

 

তবে এমন একটি অপ্রত্যাশিত ও প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও নিজের আত্মবিশ্বাস ও পেশাদারিত্ব শতভাগ বজায় রেখেছিলেন এই নতুন প্রেস সচিব। কথার মাঝে আচমকা হোঁচট খাওয়ার পর মুহূর্তেই নিজেকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সামলে নেন তিনি।

 

তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে ও কৌতুকের ছলে তিনি স্মিত হেসে বলেন, “এটি বেশ ভালো একটি বিষয় হলো।” তার এই স্বতঃস্ফূর্ত রসিকতায় উপস্থিত প্রবীণ ও নবীন সাংবাদিকরাও হাসিতে যোগ দেন এবং পরিবেশের প্রাথমিক অস্বস্তি অত্যন্ত দ্রুত কেটে যায়।

 

এরপর তিনি অত্যন্ত সুচারুভাবে আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করতে শুরু করেন। হোয়াইট হাউসের মতো এমন একটি শীর্ষস্থানীয়, প্রভাব বিস্তারকারী ও নীতিনির্ধারণী পদে একজন চার সন্তানের মাকে নিয়োগ দেওয়ার যে সাহসী সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়েছেন, সেটির ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

 

এই সমগ্র প্রেক্ষাপটটি গভীরভাবে অনুধাবন করতে হলে হোয়াইট হাউসের পূর্ববর্তী প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিটের আকস্মিক পদত্যাগের বিষয়টি স্মরণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। গত আগস্ট মাসে ক্যারোলিন লিভিট সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে এই সম্মানজনক ও ক্ষমতাশালী পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

 

সেই সময়ে তিনি গণমাধ্যমের কাছে স্পষ্টভাবেই জানিয়েছিলেন যে, সন্তানদের আরও বেশি সময় দেওয়া তার জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে এবং হোয়াইট হাউসের কাজের মাত্রাতিরিক্ত চাপ তার স্বাভাবিক পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

লিভিটের সেই শূন্যস্থানে যখন কেটি জ্যাকারিয়া স্থলাভিষিক্ত হলেন, তখন মার্কিন রাজনীতিতে কর্মজীবী নারী ও মাতৃত্বের অধিকারের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই পুনরায় সামনে চলে আসে। কেটি জ্যাকারিয়া সাংবাদিকদের অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, তার পরিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হচ্ছে শুধুমাত্র এই গুরুদায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে।

 

চার সন্তানের একজন মাকে এমন একটি শীর্ষ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সমগ্র জাতির সামনে প্রমাণ করেছেন যে, কর্মজীবী নারীদের ক্ষমতায়ন, পেশাগত অধিকার ও তাদের প্রতি বর্তমান প্রশাসনের কতটা জোরালো ও অবিচল সমর্থন রয়েছে।

 

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রসঙ্গের বাইরে এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিমালা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়। নিজের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিনের এই আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনটি কেটি জ্যাকারিয়া একটি পূর্বপ্রস্তুত করা ও অত্যন্ত সুবিন্যস্ত লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু করেছিলেন।

 

তার সেই প্রারম্ভিক বক্তব্যে মার্কিন প্রশাসনের বেশ কয়েকটি অগ্রাধিকারমূলক খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ নীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষার জন্য শুল্ক আরোপ এবং বহুল আলোচিত অবৈধ অভিবাসন সংকট নিরসনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর, আপসহীন ও সুনির্দিষ্ট নীতিগুলোর কথা তিনি সুস্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

এর পাশাপাশি, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণার কৌশলগত দিকগুলো এবং রিপাবলিকান দলের রাজনৈতিক লক্ষ্যমাত্রাও তার বক্তব্যে অত্যন্ত সাবলীলভাবে উঠে আসে।

 

নিজের এই নতুন এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ভূমিকাকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করেন। তিনি এটিকে প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দূরদর্শী এজেন্ডাগুলোকে দেশব্যাপী আরও জোরালো, নিখুঁত ও সুসংগঠিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি অভাবনীয় সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন।

 

উপস্থিত আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও অবিচল কণ্ঠে কেটি জ্যাকারিয়া বলেন, “হোয়াইট হাউসের বাইরে থেকে আমি এতদিন যে নিরলস কাজটি করে আসছিলাম, আজ এখানে এই মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চেও ঠিক একই কাজ করার সুযোগ আমি পাচ্ছি।

 

আর তা হলো, সাধারণ আমেরিকান জনগণের বৃহত্তর কল্যাণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবিশ্বাস্য, যুগান্তকারী ও জনবান্ধব এজেন্ডাগুলোকে আরও বড় পরিসরে এবং প্রসারিত আকারে সমগ্র দেশের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।”

 

তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে অকপটে স্বীকার করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই নিজের প্রশাসনের ‘সেরা মুখপাত্র’। তার মতো একজন দক্ষ যোগাযোগকারীর হয়ে কথা বলাটা গর্বের বিষয়।

 

একজন বিশ্বস্ত সহযোগী ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্টের সেই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরকে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে আরও নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করার গুরুদায়িত্ব পরম নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

নতুন প্রেস সচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি তার পূর্বসূরির নীতি হুবহু অনুসরণ করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হলে তিনি প্রথম প্রশ্নটি করার সুযোগ প্রদান করেন মার্কিন ডানপন্থি ও রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত ব্রেইটবার্ট নিউজকে।

 

উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউসের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনগুলোতে শুধুমাত্র মূলধারার বা ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম নয়, বরং হোয়াইট হাউস প্রেস পুলে নতুন, স্বতন্ত্র ও উদীয়মান সংবাদমাধ্যমগুলোকে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করার একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় নিয়ম চালু করেছিলেন সাবেক প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট।

 

কেটি জ্যাকারিয়াও অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি তার পূর্বসূরির সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈচিত্র্যময় নিয়মের ধারাবাহিকতা অবশ্যই বজায় রাখবেন, যাতে করে সকল রাজনৈতিক ঘরানার ও মতাদর্শের সাংবাদিকরা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের সমান ও অবাধ সুযোগ পান।

 

তবে এতসব গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনা, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বয়ান সত্ত্বেও, নতুন প্রেস সচিবের জীবনের এই প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনটি স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ১৪ মিনিট, যা হোয়াইট হাউসের নিয়মিত ও ঐতিহ্যবাহী ব্রিফিংগুলোর স্বাভাবিক ব্যাপ্তির তুলনায় বেশ সংক্ষিপ্ত বলে বিবেচিত হয়েছে।

 

এই অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি সব মিলিয়ে মাত্র তিনটি নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার সুযোগ পান। এরপর অত্যন্ত আকস্মিকভাবেই তিনি ব্রিফিং সমাপ্ত ঘোষণা করেন, যা অনেককেই কিছুটা অবাক করেছিল।

 

এর সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার একটি নির্ধারিত ও জরুরি সফরের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অপেক্ষমাণ মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারে চড়ে হোয়াইট হাউস ত্যাগের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

সাংবাদিকদের নিরাশ না করে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে পরামর্শ দেন যে, তারা চাইলে দ্রুত ব্রিফিং রুম ত্যাগ করে সরাসরি বাইরে লনে গিয়ে খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রশ্নগুলো করতে পারেন।

 

এভাবেই ব্যক্তিগত জীবনের অনাকাঙ্ক্ষিত হাসি-কৌতুক, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনা এবং আকস্মিক সমাপ্তির মধ্য দিয়ে অত্যন্ত বর্ণিলভাবে শেষ হয় হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সচিবের বহুল আলোচিত প্রথম সংবাদ সম্মেলন।

 

- ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এপি