সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, নরওয়েকে আখ্যা দিলেন 'জঘন্য দেশ'

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, নরওয়েকে আখ্যা দিলেন 'জঘন্য দেশ'
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার স্পষ্টবাদী, অপ্রথাগত ও অনেক ক্ষেত্রে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য বরাবরই সুপরিচিত। তার প্রতিটি বক্তব্যই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যেমন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়, তেমনি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতেও নানা মাত্রার প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

 

অতি সম্প্রতি তার এমনই এক মন্তব্যের কারণে নতুন করে এক কূটনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। এবার তার ক্ষোভের নিশানা হয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের অন্যতম শান্তিকামী, উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নরওয়ে। অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করতে না পারার চরম হতাশা ও অসন্তোষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নরওয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

 

শুধু সমালোচনাই নয়, তিনি নরওয়েকে একটি 'জঘন্য দেশ' হিসেবে প্রকাশ্যে আখ্যায়িত করেছেন এবং অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে, নরওয়ে থেকে আগত কোনো অভিবাসীকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আর স্বাগত জানাতে ইচ্ছুক নন।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে, কারণ ঐতিহাসিকভাবে নরওয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং পশ্চিমা বিশ্বের একটি প্রভাবশালী দেশ হিসেবে পরিচিত।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিস্তারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভাবনীয় ও বিতর্কিত মন্তব্যটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত রোববার (২৫ অক্টোবর) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিশিগান অঙ্গরাজ্যের পোর্ট হুরন শহরে আয়োজিত এক বিশাল ও জনবহুল নির্বাচনি সমাবেশে প্রদান করেন।

 

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির একজন প্রভাবশালী সিনেট প্রার্থীর প্রতি জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যেই ওই মেগা রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।

 

সাধারণত এই ধরনের নির্বাচনি প্রচারণায় অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলোই বেশি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মঞ্চকেই ব্যবহার করেছেন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিজের ক্ষোভ উগরে দেওয়ার জন্য।

 

সমাবেশের একপর্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জটিল অভিবাসন নীতি এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন, আর তখনই তার বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়ায় নরওয়ে ও নোবেল শান্তি পুরস্কার।

 

পোর্ট হুরনের সেই বিশাল সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার উৎফুল্ল সমর্থকের সামনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দীর্ঘ ভাষণে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তার প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান যে, বিশ্বের নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশ থেকে আগত যোগ্য ও মেধাবী অভিবাসীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাতে তার বা তার প্রশাসনের নীতিগত কোনো আপত্তি নেই।

 

কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অভিবাসীদের একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। তবে তিনি তৎক্ষণাৎ তার বক্তব্যের মোড় ঘুরিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও আক্রমণাত্মক সুরে বলেন যে, নরওয়ে নামক দেশটির কোনো নাগরিককে তিনি আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেখতে চান না।

 

একটি উন্নত ও মিত্র দেশের নাগরিকদের সম্পর্কে এমন চরম নেতিবাচক মন্তব্য করার কারণ হিসেবে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন যে, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তার প্রশাসনের যুগান্তকারী পদক্ষেপ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিগুলো সম্পাদনে তার অসামান্য অবদানের পরও তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য বিবেচনা না করা নরওয়ের একটি চরম ব্যর্থতা ও ইচ্ছাকৃত অবহেলা।

 

নিজ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নরওয়েকে সরাসরি একটি 'জঘন্য দেশ' বা অত্যন্ত নেতিবাচক অর্থে আখ্যায়িত করেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই শব্দচয়নকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অসংবেদনশীল বলে মনে করছেন, কারণ নরওয়ে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার, শান্তি ও উন্নয়নের এক অনন্য রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত।

 

উল্লেখ্য যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এ ধরনের অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার এটাই প্রথম নয়। এর আগে তার প্রথম মেয়াদের শাসনামলে তিনি হাইতি, লিবিয়া, সোমালিয়া এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের মতো উন্নয়নশীল বা সংকটপীড়িত দেশগুলোর সম্পর্কে কথা বলতে গিয়েও ঠিক একই ধরনের চরম আপত্তিকর ও অবমাননাকর শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

 

সে সময় তার ওই মন্তব্যকে বর্ণবাদী ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। কিন্তু এবার কোনো তৃতীয় বিশ্বের দেশ নয়, বরং ইউরোপের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও উন্নত রাষ্ট্র সম্পর্কে এমন মন্তব্য করায় পশ্চিমা দুনিয়ায় চরম বিস্ময় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

 

তার দীর্ঘ ও আবেগময় ভাষণের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতার প্রসঙ্গটিও সুকৌশলে টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন যে, ইউরোপের দেশগুলোতে বর্তমানে যে সামাজিক অস্থিরতা, দাঙ্গা ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা যাচ্ছে, তার মূল কারণ হলো তাদের ত্রুটিপূর্ণ ও শিথিল অভিবাসন নীতি।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন একটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক কাঠামোর জন্য কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারে, ফ্রান্সের বর্তমান পরিস্থিতি তার একটি বাস্তব প্রমাণ।

 

তিনি মার্কিন জনগণকে সতর্ক করে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর না হয় এবং যাচাই-বাছাই না করে অভিবাসীদের প্রবেশের সুযোগ দেয়, তবে তাদের অবস্থাও ইউরোপের দেশগুলোর মতো শোচনীয় হতে পারে।

 

অভিবাসন বিরোধী এই শক্ত অবস্থান ট্রাম্পের মূল রাজনৈতিক ভিত্তি বা 'কোর ভোটার'দের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়, এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে এমন বক্তব্য সেই সমর্থকদের উজ্জীবিত করার একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক কৌশল বলেই মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

 

তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নরওয়ের নাগরিকদের সম্পর্কে ট্রাম্পের এমন প্রকাশ্য বিরূপ মন্তব্য বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও, মার্কিন প্রশাসন বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি যে তারা সত্যিই নরওয়ের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা নতুন কোনো কঠোর নীতি আরোপ করতে যাচ্ছে।

 

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছেন। এর অর্থ দাঁড়ায়, ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি সম্ভবত কেবলই তার ব্যক্তিগত ক্ষোভের তাৎক্ষণিক বহিঃপ্রকাশ এবং একটি রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর মাত্র, যা কোনো আইনগত বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশে আইন প্রণেতাদের অনুমোদন ছাড়া এমন কোনো বৈষম্যমূলক অভিবাসন নীতি বাস্তবায়ন করাও বাস্তবসম্মত নয়। নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়া নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অসন্তোষ বা হতাশা নতুন কোনো বিষয় নয়।

 

এর আগেও তিনি একাধিকবার প্রকাশ্য জনসভায় এবং সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে তার চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তার দাবি, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা শুরু করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে যে 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস' বা আব্রাহাম চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, সেটি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক অনন্য ঐতিহাসিক অর্জন।

 

এই অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কারটি তার প্রাপ্য ছিল বলে তিনি মনে করেন। চলতি বছরের অক্টোবরের শুরুর দিকেও তিনি এক সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত দম্ভভরে মন্তব্য করেছিলেন যে, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নরওয়ের নোবেল কমিটি নিয়েছে, সেটি ভবিষ্যতে তাদের জন্য একটি ‘অমোচনীয় কলঙ্ক’ হয়ে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।

 

তিনি মনে করেন, কমিটি রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতার কারণেই তার অসামান্য অর্জনকে স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যাকে 'জঘন্য দেশ' বলে আখ্যায়িত করেছেন, সেই নরওয়ে আসলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সূচকে, জীবনযাত্রার মানে এবং মানবিক উন্নয়নে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয়, স্থিতিশীল ও একটি উন্নত রাষ্ট্র।

 

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিক থেকে নরওয়েকে বিশ্বের অন্যতম উচ্চ আয়ের দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো তাদের বিশাল তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত। মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবেও বিশ্ব অর্থনীতিতে নরওয়ের অবস্থান অত্যন্ত ঈর্ষণীয়।

 

শুধু তাই নয়, নরওয়ে তাদের তেল বিক্রির উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে যে সার্বভৌম সম্পদ তহবিল (সোভরেইন ওয়েলথ ফান্ড) গড়ে তুলেছে, তা বিশ্বের বৃহত্তম। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই নরওয়ের এই রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল রেকর্ড পরিমাণ ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি নরওয়েজীয় ক্রোনার, যা মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ১৮ হাজার ৪৩০ কোটি ডলারের সমান, নিট মুনাফা অর্জন করেছে।

 

এই বিশাল আর্থিক সাফল্যই প্রমাণ করে যে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দিক থেকে নরওয়ে কতটা শক্তিশালী ও দূরদর্শী একটি রাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চরম আক্রমণাত্মক, অবমাননাকর ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত সর্বশেষ মন্তব্যের বিষয়ে নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা অসলোতে অবস্থিত নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি প্রদান করেননি।

 

নরওয়েজিয়ান সরকার ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে অত্যন্ত যত্নশীল এবং তারা হয়তো একটি মিত্র দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো বড় ধরনের কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইছেন না।

 

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের পরোক্ষ সমালোচনা করা হয়েছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি সাধারণ রীতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে যে, ঘরোয়া রাজনীতির ময়দানে হাততালি কুড়ানোর জন্য ব্যবহৃত বাক্যবাণ অনেক সময়ই বিশ্বমঞ্চে অনাকাঙ্ক্ষিত কূটনৈতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে।

 

- রয়টার্স