মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬
১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচন: জনমত জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচন: জনমত জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদ
ছবি : Collected

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনটি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে এক তীব্র উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ তথা সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কোন রাজনৈতিক দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে এই অঙ্গরাজ্যের ফলাফল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিয়ামক ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে।

 

নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষণে এসে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনীত প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মাইক রজার্স নিজেদের পক্ষে জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় সর্বাত্মক শক্তি নিয়োগ করেছেন।

 

সোমবার সন্ধ্যায় এই দুই শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী সম্পূর্ণ পৃথক দুটি বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে অংশগ্রহণ করে ভোটারদের প্রতি তাদের চূড়ান্ত আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তীক্ষ্ণ নজর এখন মিশিগানের এই রাজনৈতিক রণক্ষেত্রের দিকে, যেখানে রাজনৈতিক আদর্শ, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ-সবকিছু মিলেমিশে এক অভূতপূর্ব মেরুকরণের সৃষ্টি করেছে।

 

নির্বাচনী প্রচারণার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে নানা ধরনের অপ্রত্যাশিত ও নাটকীয় ঘটনার জন্ম হলেও, একাধিক নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপে সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এবং বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিয়েনা কলেজের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ও রবিবার প্রকাশিত এক গুরুত্বপূর্ণ জরিপের ফলাফলে দেখা যায় যে, সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে আল-সাইয়েদের প্রতি সমর্থন রয়েছে ৫৩ শতাংশ।

 

এর বিপরীতে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন ৪২ শতাংশ ভোটার। অর্থাৎ, পরিসংখ্যানগত দিক থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে পুরো ১১ শতাংশ পয়েন্টের এক বিশাল ও সুবিধাজনক ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

 

উল্লেখ্য, অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত এই জরিপটির ভুলের সম্ভাব্য সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট। জরিপের এই পরিসংখ্যান ডেমোক্র্যাট শিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে।

 

অন্যদিকে, রিপাবলিকান শিবিরও নিজেদের জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী এবং তারা ভোটারদের আবেগ ও জাতীয়তাবোধকে কাজে লাগানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার রাতে রচেস্টার হিলস নামক স্থানে আয়োজিত এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন সাবেক কংগ্রেস সদস্য ও বর্তমান রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স।

 

সমাবেশস্থলে যখন প্রখ্যাত মার্কিন সংগীতশিল্পী টম পেটির জনপ্রিয় গান ‘আই ওন্ট ব্যাক ডাউন’ (আমি পিছপা হব না) বাজছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে এক বীরোচিত আবহে মঞ্চে আরোহণ করেন রজার্স। উপস্থিত হাজার হাজার উদ্দীপ্ত সমর্থকের উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন ও জোরালো ভাষণে তিনি চলমান এই নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হৃদয় ও আত্মার’ অস্তিত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

 

তিনি উপস্থিত জনতার আবেগ উসকে দিয়ে প্রশ্ন রাখেন যে, তারা আগামীকাল দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে পুরোপুরি প্রস্তুত কি না। একই সঙ্গে তিনি ডেমোক্র্যাটদের নীতিমালার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, গোটা দেশকে এই স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে, আমেরিকার মাটিতে ডেমোক্র্যাট সোশ্যালিস্ট বা সমাজতন্ত্রীদের পতন নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

বিপরীতে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ তার প্রচারণায় সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সমস্যা এবং অর্থনৈতিক সংকটগুলোকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। ডেট্রয়েট শহরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ও প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সের (ইউএডব্লিউ) সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানোর সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।

 

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি সংকটে জর্জরিত খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তার দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তিনি অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় বর্ণনা করেন। তবে, কেবল অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতিতেই তার বক্তব্য সীমাবদ্ধ থাকেনি।

 

প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে তাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে যেসব বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার এবং সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হয়েছে, তারও একটি অত্যন্ত কড়া, যুক্তিযুক্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ জবাব তিনি এই সমাবেশ থেকে প্রদান করেন।

 

আবদুল আল-সাইয়েদ মূলত একজন মিসরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক, যার পরিবার উন্নত জীবনের সন্ধানে একসময় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিল। তার এই অভিবাসী ও মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান শিবিরের একটি অংশ, বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করে আসছেন।

 

ট্রাম্প বিভিন্ন নির্বাচনী সমাবেশে দাবি করেছেন যে, আল-সাইয়েদ যদি সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন, তবে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ‘জিহাদিদের এক বিশাল ঢল’ নামবে। এমনকি তিনি আল-সাইয়েদকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তার নাম বিকৃত করে ‘আবদুল রমজান’ বলে সম্বোধন করেছেন এবং কখনো কখনো তার নামের মধ্যবর্তী অংশ ‘মোহাম্মদ’ শব্দটিকে সামনে এনে তাকে চরমভাবে কটাক্ষ করার চেষ্টা করেছেন।

 

এই ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে আল-সাইয়েদ তার ডেট্রয়েটের সমাবেশে বলেন, যখন দেশে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া এবং সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে, তখন নির্বাচনে জয়ী হতে চাওয়া যেকোনো প্রার্থীর উচিত এসব বাস্তব সমস্যা নিয়ে কথা বলা।

 

কিন্তু বিরোধীরা মানুষের প্রকৃত সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে চরমভাবে অনীহা প্রকাশ করছে। এর পরিবর্তে তারা কেবল তার নাম, তার বংশপরিচয় এবং তার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে বিদ্বেষ ছড়াতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে।

 

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আক্রমণগুলোর জবাবে আল-সাইয়েদ অত্যন্ত পরিশীলিত ও আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বলেন যে, ট্রাম্প তার সঠিক নাম জানেন কি না, তা নিয়ে তার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা বা দুশ্চিন্তা নেই। কারণ, নির্বাচনের ফলাফলের পর তারা এটি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করবেন যেন ট্রাম্প তাকে বাধ্য হয়ে ‘সিনেটর’ বলেই সম্বোধন করেন।

 

তার এই তীক্ষ্ণ ও বুদ্ধিদীপ্ত জবাব সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের মধ্যে এক বিশাল করতালির ঝড় তোলে। তবে, বিরোধী শিবিরের এসব আক্রমণের বাইরেও নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ডেমোক্র্যাট শিবিরের একেবারে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে আল-সাইয়েদের জন্য একটি অভাবনীয় ও বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

 

দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে আল-সাইয়েদের কাছে পরাজিত হওয়া ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স রবিবার হঠাৎ করেই প্রকাশ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানানোর ঘোষণা দেন। তার এই আকস্মিক ও নাটকীয় সিদ্ধান্ত পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

সোমবার জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক অত্যন্ত দীর্ঘ ও ব্যাখ্যামূলক পোস্টে হ্যালি স্টিভেন্স নিজের এই বিতর্কিত অবস্থানের পেছনের কারণগুলো তুলে ধরেন। তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, আল-সাইয়েদের প্রচার শিবিরের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয়-এমন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন তার এই কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

 

ওই বিতর্কিত বিজ্ঞাপনটিতে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় সমর্থনের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান দামের একটি কাল্পনিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছিল, যা তার কাছে নীতিগতভাবে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।

 

এর পাশাপাশি, আল-সাইয়েদের মূল নির্বাচনী প্রচারণায় তাকে ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও তিনি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। স্টিভেন্স অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লেখেন যে, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে অনেক রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিষয়ে তার বিস্তর মতপার্থক্য রয়েছে।

 

কিন্তু মিশিগান অঙ্গরাজ্যকে একজন যোগ্য সিনেটর নির্বাচন করতে হবে এবং এমন একটি সংকটময় মুহূর্তে নিরপেক্ষ থাকার কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, আবদুল আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব পালনের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নন।

 

এই কঠিন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর কাকে সমর্থন করা উচিত, সেই নৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েই তিনি রজার্সকে বেছে নিয়েছেন। নিজের দলের প্রার্থীকে সমর্থন না করে বিরোধী শিবিরকে সমর্থন জানানোর কারণে স্টিভেন্সকে স্বাভাবিকভাবেই ডেমোক্র্যাট সহকর্মীদের চরম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।

 

তবে তিনি এই সমালোচনাকে কটাক্ষ করে আগামী জানুয়ারি মাসে তার বর্তমান কংগ্রেসনাল দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ভূমিকা রাখার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদান করেন। তিনি তার লেখনীতে ব্যক্ত করেন যে, তারা চাইলে ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সাহসী একটি ডেমোক্রেটিক পার্টি গড়ে তুলতে পারেন।

 

আর দলের সেই ভবিষ্যৎ সংস্কার উদ্যোগে নেতৃত্ব প্রদানের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তার রয়েছে। অন্যদিকে, রজার্সের নির্বাচনী সমাবেশে যখন স্টিভেন্সসহ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতার সমর্থনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়, তখন উপস্থিত রিপাবলিকান সমর্থকেরা বিপুল করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।

 

মাইক রজার্স স্টিভেন্সের এই দলবদলের সিদ্ধান্তকে এক ‘বিশেষ ধরনের সাহসিকতা’ বলে অভিহিত করে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা সমস্বরে ‘হ্যালি, হ্যালি’ স্লোগান দিয়ে পুরো সমাবেশস্থল মুখরিত করে তোলেন।

 

সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মিশিগান অঙ্গরাজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচন এখন আর কেবল দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের দুজন প্রার্থীর সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

 

আবদুল আল-সাইয়েদকে ঘিরে ছড়ানো ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণাত্মক বক্তব্য, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে চলমান জাতীয় বিতর্ক এবং ডেমোক্র্যাট শিবিরের অভ্যন্তরীণ সুস্পষ্ট বিভক্তি-সবকিছু মিলিয়ে এই নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণা এক চরম উত্তপ্ত ও নাটকীয় রূপ ধারণ করেছে।

 

এখন কেবল অপেক্ষার পালা, মিশিগানের সচেতন ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন এবং ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণে এই ফলাফল কী ধরনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে।

 

- আল জাজিরা