সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হারলে কি ক্ষমতা ছাড়তে হবে ট্রাম্পকে?

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হারলে কি ক্ষমতা ছাড়তে হবে ট্রাম্পকে?
ছবি : File Photo

আগামীকাল ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছর মেয়াদের ঠিক মাঝপথে বা দুই বছরের মাথায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় গোটা বিশ্বের নজর এখন মার্কিন রাজনীতির দিকে।

 

এই ভোট ঘিরে সাধারণ আমেরিকান নাগরিক থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলের অনেকের মনেই একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রশ্নটি হলো, যদি এই নির্বাচনে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা জয়লাভ করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তবে কি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে?

 

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও রাজনৈতিক কাঠামোর আলোকে এর অত্যন্ত সহজ ও সরাসরি উত্তর হলো, না। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কোনোভাবেই ক্ষমতা ছাড়তে হবে না। মার্কিন সংবিধানে একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদ সুনির্দিষ্ট করা থাকে।

 

ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের রাজনৈতিক দলের পরাজয় হলেও ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে কখনোই পদত্যাগ করতে হয় না। তবে এই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছর সময়টুকু কতটা মসৃণ হবে নাকি পদে পদে বাধার মুখে পড়বে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ধারণ করে দেবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতি দুই বছর পরপর কংগ্রেসের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প চার বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, আর এই চার বছর মেয়াদের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে ভোট অনুষ্ঠিত হয় বলেই একে ‘মিডটার্ম’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

 

মার্কিন আইনসভা বা কংগ্রেস মূলত দুটি কক্ষে বিভক্ত। এর একটি হলো উচ্চকক্ষ বা সিনেট এবং অন্যটি হলো নিম্নকক্ষ বা হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস, যাকে বাংলায় প্রতিনিধি পরিষদ বলা হয়। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই নতুন করে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 

অন্যদিকে, সিনেটের মোট ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। কংগ্রেসের এই নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া এবং মিশিগানের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী অঙ্গরাজ্যগুলোতে সাধারণ ভোটাররা তাদের নতুন গভর্নরও বেছে নেবেন।

 

এই অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে বিশাল ভূমিকা পালন করে থাকে। বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। কিন্তু এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যবধান অত্যন্ত সামান্য।

 

প্রতিনিধি পরিষদে তাদের ২১৮টি আসন রয়েছে, যা এই কক্ষটিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংখ্যা। এর সঙ্গে কেবল একজন স্বতন্ত্র সদস্য আছেন, যিনি নিয়মিত তাদের পক্ষে ভোট দিয়ে থাকেন। অপরদিকে, উচ্চকক্ষ সিনেটে রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে ৫৩টি আসন।

 

তবে সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন জরিপের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার দলের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। জনমত জরিপগুলোতে প্রেসিডেন্টের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন ক্রমশ নিম্নমুখী হতে দেখা যাচ্ছে।

 

সুপরিচিত নির্বাচনী জরিপভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘সিলভার বুলেটিন’-এর তথ্য ও উপাত্ত অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০ শতাংশের কিছুটা বেশি জনসমর্থন নিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদের যাত্রা শুরু করেছিলেন।

 

কিন্তু অক্টোবরের শুরুতে সেই জনপ্রিয়তার রেটিং উল্লেখযোগ্য হারে কমে প্রায় ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর বিপরীতে প্রায় ৬১ শতাংশ মানুষ তার বর্তমান প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের প্রতি প্রকাশ্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

 

এই জনপ্রিয়তা কমার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহ দায়ী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিধর দেশ ইরানে সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর মতো একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তখন তার জনপ্রিয়তার রেটিং ছিল ৪২ শতাংশের ঘরে।

 

তবে সেই সামরিক হামলার পরপরই তা ৪০ শতাংশের নিচে নেমে যায় এবং বর্তমানে তা ৩৭ শতাংশে এসে ঠেকেছে। আট বছর আগে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের ঠিক এই সময়ে তার গ্রহণযোগ্যতার রেটিং ছিল ৪৩ শতাংশ।

 

অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের একই সময়ে এই রেটিং ছিল ৪০ শতাংশ। অবশ্য ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যায়, এই দুটি ক্ষেত্রেই তৎকালীন প্রেসিডেন্টরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালেও উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ক্রমাগত নিম্নমুখী রেটিংই মূলত বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসের উভয় কক্ষ জয়ের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ফলে তারা এখন এমন সব অঙ্গরাজ্যে নিবিড়ভাবে নজর দিচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় জোর দিচ্ছে, যেগুলো বিগত বছরগুলোতে রিপাবলিকান পার্টির দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল।

 

অতীতে মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, সাধারণ ভোটাররা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলের ওপর নানা কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ‘শাস্তি’ দেওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা এবার সেই ঐতিহাসিক সুযোগটিই কাজে লাগাতে চাইছে।

 

উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে বিরোধী দলটিকে অন্তত ৫১টি আসন জয় করতে হবে। কারণ উভয় পক্ষ যদি ৫০টি করে আসন পায়, তবে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্টের (যিনি রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচিত) দেওয়া নির্ণায়ক ভোটটি রিপাবলিকানদের পক্ষেই যাবে। তাই ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র এক বিস্তারিত বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন ভোটারদের একটি বিশাল অংশ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিই সাধারণ ভোটারের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

নির্বাচনী প্রচারণায় রিপাবলিকানরা যেখানে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী কড়াকড়ি এবং সীমান্ত সুরক্ষাকে তাদের প্রশাসনের বিশাল সফলতা হিসেবে দাবি করছে, সেখানে ডেমোক্র্যাটরা অত্যন্ত জোরালোভাবে অভিযোগ তুলছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অপরিকল্পিত শুল্ক নীতির কারণেই মূলত দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে।

 

এর বাইরে সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নিয়েও মার্কিন সমাজে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, উভয় দলের শীর্ষ রাজনীতিবিদরাই এই প্রযুক্তির লাগাম টানা বা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন, যার মাধ্যমে তারা প্রকারান্তরে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু শিথিল নীতির বিরোধিতাই করছেন।

 

এবারের ব্যালট পেপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজের নাম সরাসরি না থাকলেও, তিনি তার কট্টর সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের প্রতি তার প্রশাসনের এযাবৎকালের কর্মকাণ্ড ও অর্জনের ওপর ভিত্তি করেই রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি কংগ্রেস হলো সরকারের তিনটি প্রধান শাখার মধ্যে অন্যতম একটি শাখা। নতুন আইন প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয় বাজেট পাসের ক্ষেত্রে এই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকাটা যেকোনো প্রেসিডেন্টের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

যদি বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের যেকোনো একটি কক্ষেরও নিয়ন্ত্রণ অন্তত পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়, তবে তারা সংসদে নিজেদের পছন্দমতো আইন উত্থাপন করার বিশাল ক্ষমতা লাভ করবে।

 

সবচেয়ে বড় কথা হলো, ডেমোক্র্যাটরা যদি যেকোনো একটি কক্ষে জয়লাভ করে, তবে ট্রাম্পের পক্ষে কংগ্রেসে তার পছন্দ অনুযায়ী নতুন কোনো আইন পাস করানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে তার দ্বিতীয় মেয়াদের অভ্যন্তরীণ নীতি ও পরিকল্পনাগুলো বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ে আটকে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।

 

শুধু তাই নয়, যেকোনো একটি কক্ষের ওপর ডেমোক্র্যাটদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে তারা বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করতে পারবে।

 

হোয়াইট হাউসের ভেতরে নতুন বিলাসবহুল বলরুম নির্মাণের ব্যয়, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ এবং ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ বা আইস-এর বেশ কিছু বিতর্কিত কার্যকলাপ তখন সরাসরি আইনি ও সংসদীয় তদন্তের আওতায় চলে আসতে পারে।

 

এমনকি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কট্টরপন্থি অংশের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আবারও অভিশংসন করা হবে কি না, তা নিয়েও দলের ভেতরে জোর বিতর্ক চলছে। উল্লেখ্য, অভিশংসনের অর্থ হলো কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন সব গুরুতর অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা, যা মূলত একটি রাজনৈতিক বিচারের শক্ত ভিত্তি তৈরি করে, এটি কোনো সাধারণ ফৌজদারি বিচার নয়।

 

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি যদি তাদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখে কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পারে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মেয়াদের বাকি সময়টুকুতে নিজের অসম্পূর্ণ এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নে পুরোপুরি সফল হতে পারবেন।

 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প আর কখনোই তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। ফলে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলের নজর স্বভাবতই চলে যাবে ২০২৮ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে।

 

ওই নির্বাচনকে ঘিরেই নির্ধারিত হবে রিপাবলিকান পার্টিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যোগ্য উত্তরসূরি কে হচ্ছেন এবং বিরোধী শিবির ডেমোক্র্যাটদের দল থেকেই বা কে আগামী দিনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, এটি যে মার্কিন রাজনীতির আগামী দিনের রূপরেখা নির্ধারণে একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

 

- বিবিসি, ইউএসভোট ফাউন্ডেশন