স্পিকার ক্বালিবাফ বলেন, ইসরায়েলি হামলায় মার্কিন রাষ্ট্রপতির (ডোনাল্ড ট্রাম্প) ভূমিকার সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্বের একটি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি ইরানি জাতির পক্ষ থেকে এই "জঘন্য" কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র এই নির্লজ্জ আগ্রাসনের ভয়াবহ ফলাফল মেনে নিতে বাধ্য, যার ফলে ইরানের অসংখ্য নাগরিক ‘শহীদ’ হয়েছেন।
মোহাম্মদ বাঘের ক্বালিবাফ জোর দিয়ে আরও বলেন, যেকোনো ধরনের হুমকির মুখে ইরানি জাতি সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, আগ্রাসনকারীদের অবশ্যই তাদের এই বৈরী ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য কঠিন জবাবদিহি করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি 'বিনা উস্কানির' যুদ্ধ শুরু করে, যাতে ইরানের বহু উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং সাধারণ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে সরাসরি প্রবেশ করে এবং ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করে। এই হামলাকে জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং পারমাণবিক অপ্রসারণ চুক্তির (এনপিটি) একটি গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের ভাষ্যমতে, গত ২৪ জুন তারা ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্র-উভয়ের বিরুদ্ধেই সফল প্রতিশোধমূলক অভিযান পরিচালনা করে, যার মাধ্যমে এই 'অবৈধ' হামলা সাময়িকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়। এই উত্তেজনার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তৃতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার দায়ভার প্রায় পুরোটাই নিজের কাঁধে তুলে নেন, যা ওয়াশিংটন পূর্বে কেবলই 'ইসরায়েলি পদক্ষেপ' বলে দাবি করে আসছিল।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেন, "ইসরায়েল প্রথমে আক্রমণ করেছিল। সেই আক্রমণ অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। আমিই এর সম্পূর্ণ দায়িত্বে ছিলাম।" আগ্রাসনের পর থেকেই ট্রাম্প একাধিকবার এই হামলার কৃতিত্ব দাবি করেছেন এবং বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে "সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন" করে দিয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে, তিনি শুরু থেকেই এই যুদ্ধের নেপথ্যে ছিলেন, যদিও তিনি ইতিপূর্বে "শান্তি" প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়েছিলেন এবং নতুন যুদ্ধ শুরুর বিরোধিতা করতেন।