গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করার পর দেশটির শাসনভার ও তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কার্যত এখন ওয়াশিংটনের হাতে। ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, "আমি ভেনেজুয়েলার জনগণকে ভালোবাসি এবং ইতিমধ্যেই দেশটিকে ধনী ও নিরাপদ করে তুলছি। যারা এই প্রক্রিয়াটি সম্ভব করছেন, তাদের সবাইকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ।" ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন আন্তর্জাতিক মহলে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এক ডজনেরও বেশি তেল কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "আজ বিশ্বের বৃহত্তম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আমাদের দুর্দান্ত একটি বৈঠক হয়েছে। তারা শত শত কোটি ডলার নিয়ে সেখানে যাচ্ছে এবং তেল উত্তোলনের কাজ শুরু করবে।" ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো এস্টেটে যাওয়ার পথে তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, এই প্রক্রিয়ায় "প্রচুর অর্থ উপার্জন হতে যাচ্ছে।"
ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ভেনেজুয়েলা এবং এর বিশাল তেল সম্পদের পরিচালনা যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে। এদিকে, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটকের পর নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যদিও গত সোমবার আদালতে শুনানিকালে তাঁরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ রক্ষায় ট্রাম্প শুক্রবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন এবং জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এই আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিতে গচ্ছিত ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির লভ্যাংশ বা রাজস্বকে যে কোনো ধরণের আইনি প্রক্রিয়া বা ব্যক্তিগত দাবি থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই তহবিল ভেনেজুয়েলার সার্বভৌম সম্পত্তি এবং তা সরকারি ও কূটনৈতিক কাজে ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে সংরক্ষিত থাকবে।
ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই অর্থের সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তিগত বা বেসরকারি খাতের কোনো দাবি যাতে এই রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ঝুঁকিতে ফেলতে না পারে, সেজন্যই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এবং মন্তব্যগুলো স্পষ্ট করে দেয় যে, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে তেলের নিয়ন্ত্রণ একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। একদিকে তিনি ভেনেজুয়েলার মানুষকে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, অন্যদিকে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর মার্কিন কোম্পানিগুলোর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করছেন।