২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিজ কেন্দ্র বারাকপুর থেকে পরাজিত হওয়ার অনতিবিলম্বে তিনি এই ঘোষণা দেন। গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি জানান যে, রাজনৈতিক ময়দান থেকে সরে দাঁড়িয়ে তিনি পুনরায় নিজের চিরচেনা সৃজনশীল অঙ্গন অর্থাৎ চলচ্চিত্র নির্মাণে পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পটপরিবর্তন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের প্রেক্ষাপটে রাজ চক্রবর্তীর এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে বারাকপুর আসন থেকে জয়লাভ করে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও, এবারের নির্বাচনে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এমন আকস্মিক প্রস্থান টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। রাজের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র পাড়ার ভেতরে ও বাইরে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ।
বিশেষ করে বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী নাট্যব্যক্তিত্ব ও পরিচালক সৌরভ পালোধি নাম উল্লেখ না করে রাজ চক্রবর্তীর এমন পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন যে, নির্বাচনে পরাজয় কি রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি হতে পারে?
ক্ষমতার বাইরে থাকলে কি রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে যায়? সৌরভ পালোধির এই মন্তব্য মূলত রাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আদর্শিক দৃঢ়তার অভাবকেই ইঙ্গিত করে।
নেটিজেনদের মতে, সৌরভের এই সমালোচনায় ফুটে উঠেছে যে রাজনীতি কেবল জয়-পরাজয় বা ক্ষমতার সমীকরণ নয়, বরং এটি রাজপথে থেকে নিরন্তর সংগ্রামের একটি প্রক্রিয়া। সৌরভ নিজের অবস্থানে অনড় থেকে স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনৈতিক দর্শন কেবল নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়।
তবে এই সমালোচনার বিপরীতে রাজ চক্রবর্তীর অনুসারীরা মনে করছেন, সৃজনশীল মানুষেরা অনেক সময় রাজনীতির জটিল সমীকরণ এবং পরাজয় পরবর্তী গ্লানি সহ্য করতে পারেন না বলেই এমন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য যে, টলিউডের এই হেভিওয়েট নির্মাতার হঠাৎ বিদায়ে বারাকপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হবে, তা নিয়ে দলগতভাবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সৌরভ পালোধির শ্লেষাত্মক মন্তব্যের জবাবে রাজ চক্রবর্তী এখন পর্যন্ত নীরবতা পালন করছেন।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধির এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। চলচ্চিত্র জগৎ থেকে আসা তারকাদের রাজনীতিতে পদার্পণ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাদের এমন দ্রুত প্রস্থানের ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় গণতন্ত্রে তারকা-রাজনীতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ করে দিয়েছে।