সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রনূতন তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের লাভ-লোকসানের হিসাব তুলে ধরেছেন। সিনেমার আবহে বেড়ে ওঠা প্রনূতন শুরু থেকেই জানতেন যে, গ্ল্যামারের এই জগতটা মোটেও সহজ নয়। তাঁর আশপাশের সবাই শিল্পী হওয়ায় তিনি এমন সময়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন, যখন হাতে কোনো কাজ থাকবে না। তিনি বলেন, "আমার আশপাশের সবাই শিল্পী, তাই আমার বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে এমনও সময় আসতে পারে, যখন আপনার হাতে কোনো কাজ থাকবে না। আর আমাকে এ ধরনের সতর্কবাণী অনেক আগেই দেওয়া হয়েছিল।"
ফিল্মি পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে তিনি নিজেকে পর্দার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত করার বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন বলে স্বীকার করেন। তবে এর কারণে তাঁকে অনেক ক্ষতিও স্বীকার করতে হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। প্রনূতনের মতে, তারকা-সন্তান হওয়া সত্ত্বেও ইন্ডাস্ট্রিতে সবার জন্য পথ সহজ নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "প্রত্যেক তারকা-সন্তান ইন্ডাস্ট্রিতে সহজে জায়গা পান না। সবার জন্য এই পথ সহজ নয়। এর জ্বলন্ত উদাহরণ আমি নিজে। অভিনেতার মেয়ে বলে সবকিছু সহজে পেয়ে গেছি, তা কখনো নয়। আর এমন নয় যে আমাকে দাঁড় করানোর জন্য আমার বাবা পেছন থেকে টাকা ঢেলেছেন।"
২০১৬ সাল থেকে ক্রমাগত অডিশন দিয়ে এসেছেন বলে জানান প্রনূতন। অবশেষে ২০১৮ সালে প্রথম সুযোগ পান এবং ২০১৯ সালে তাঁর প্রথম ছবি মুক্তি পায়। এই দীর্ঘ যাত্রায় তাঁকে মানসিক উত্থান-পতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে প্রনূতন জানান, তাঁকে অসংখ্যবার প্রত্যাখ্যানের শিকার হতে হয়েছে এবং এখনও তিনি অডিশন দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হওয়ার কারণ ছিল নিজের শর্তে বাঁচতে চাওয়া।
তিনি বলেন, "অডিশন দেওয়ার সময় শুধু আমার নাম বলতাম। পদবি বলতাম না। চাইতাম না যে 'বহেল' পদবি শুনে কেউ কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাক। শুরুতে কেউ জানতেন না যে আমি ফিল্মি পরিবারের একজন। মনীশ বহেলের মেয়ে বা নূতনের নাতনি বলে কোনো কাস্টিং ডিরেক্টর আমাকে নির্বাচন করুক, কখনোই আমি তা চাইনি।" অভিনয়ের পাশাপাশি একাধিক গানের ভিডিওতে কাজ করে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেন এই অভিনেত্রী। তবে ধীরে ধীরে তাঁর ভাগ্য ফিরছে বলে মনে হয়। প্রনূতন জানান, আগামীতে তাঁকে হিন্দি-ইংরেজি ভাষার ছবি 'কোকো অ্যান্ড নাটস'-এ দেখা যাবে। এছাড়াও, একটি পুলিশ ড্রামা এবং একটি থ্রিলার-তাঁর আরও দুটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।