তার এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সাংস্কৃতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমান বিনোদন বিশ্বে যখন বয়স লুকিয়ে রাখা এবং ‘বোটক্স’ বা কসমেটিক সার্জারির মাধ্যমে কৃত্রিম সৌন্দর্য ধরে রাখার অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে, তখন জয়া বচ্চন হাঁটছেন সম্পূর্ণ বিপরীত স্রোতে। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, বার্ধক্যকে তিনি ভয় পান না, বরং একে জীবনের একটি স্বাভাবিক ও সম্মানজনক অধ্যায় হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কৃত্রিমতার আশ্রয় নিয়ে নিজের বয়স লুকানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই। বরং নিজের মুখের প্রতিটি বলিরেখা এবং প্রতিটি ধূসর চুলের জন্য তিনি গর্ববোধ করেন। তার মতে, এই বাহ্যিক পরিবর্তনগুলো তার জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পরিণতবোধের সাক্ষী। গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্যের মাঝেও নিজের স্বাভাবিক রূপ ধরে রাখার এই সাহসিকতা তাকে সমসাময়িক অনেকের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
পারিবারিক মূল্যবোধ ও সন্তান প্রতিপালন নিয়েও কথা বলেছেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী। তারকা দম্পতির সন্তান হওয়া সত্ত্বেও নিজের সন্তানদের তিনি কীভাবে বড় করেছেন, তা নিয়ে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। তিনি জানান, সন্তানদের সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ও তার পরিবার কখনোই আপস করেননি। তারা যাতে বখে না যায়, সেদিকে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি ছিল তার। একজন মা হিসেবে সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারার এই সাফল্য তাকে প্রতিদিন গর্বিত করে।
তবে সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আলোচিত অংশটি ছিল বর্তমান সময়ের ‘পাপারাজ্জি সংস্কৃতি’ ও সাংবাদিকতার মান নিয়ে তার ক্ষোভ প্রকাশ। জয়া বচ্চন গণমাধ্যমকর্মীদের আচরণের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, তিনি হয়তো মিডিয়ারই তৈরি একজন শিল্পী, কিন্তু বর্তমানের এই তথাকথিত আধুনিক পাপারাজ্জি সংস্কৃতির সঙ্গে তার কোনো আত্মিক সম্পর্ক নেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন যে, হাতে একটি মোবাইল ফোন থাকা, যত্রতত্র ছবি তোলা বা অশালীন পোশাক পরে ক্যামেরা নিয়ে ঘুরে বেড়ানোকেই সাংবাদিকতা বলা যায় না।
সাংবাদিকতার মতো মহান পেশার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের অভাব তাকে ব্যথিত করে। তার এই মন্তব্য মূলত সেই সব অপেশাদার আচরণের দিকেই ইঙ্গিত করে, যা প্রায়শই তারকাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে এবং সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। জয়া বচ্চনের এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, তিনি কেবল একজন সফল অভিনেত্রী বা রাজনীতিবিদই নন, বরং একজন সচেতন ব্যক্তিত্ব যিনি সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে না দিয়ে নিজের স্বকীয়তা ও মর্যাদাবোধ নিয়ে বাঁচতে পছন্দ করেন। তার এই স্পষ্টোক্তি বিনোদন জগত ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।