মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের প্রতি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা চেক প্রজাতন্ত্রের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

ইসরায়েলের প্রতি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা চেক প্রজাতন্ত্রের
ছবি: AA

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও পারস্পরিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ইসরায়েলের প্রতি অবিচল রাজনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার আনুষ্ঠানিক ও জোরালো ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র চেক প্রজাতন্ত্র।

 

একই সাথে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে দেশটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরসহ বৈশ্বিক কূটনীতির সব পর্যায়ে তেল আবিবের পাশে থাকার এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রাগ।

 

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে চেক রেডিওর বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

চেক প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেত্র মাচিংকা এবং ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সারের উপস্থিতিতে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘চেক-ইসরায়েলি বিজনেস ফোরাম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই যুগান্তকারী ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

ইস্তাম্বুল থেকে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের এই যৌথ উপস্থিতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন ও সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের সূচনা করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেত্র মাচিংকা উপস্থিত ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে তার বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, প্রাগ ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সাথে তাদের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত করতে রাজনৈতিকভাবে বদ্ধপরিকর।

 

সেই সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে ইসরায়েলকে রাজনৈতিক সমর্থন প্রদানের ক্ষেত্রেও তারা পূর্বের মতোই অবিচল থাকবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ফোরামের মূল উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করতে গিয়ে চেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে, দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন এবং কার্যকর যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি করাই এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।

 

এর মাধ্যমে কেবল কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর, যৌথ প্রকল্প গ্রহণ, বৃহৎ আকারের বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের মতো ‘বাস্তব ও দৃশ্যমান ফলাফল’ অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

আধুনিক বিশ্বায়নের যুগে অর্থনৈতিক কূটনীতি যে রাষ্ট্রীয় সুসম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি, ফোরামে দেওয়া তার বক্তব্যে সেই বিষয়টিই অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আধুনিক ও যুগান্তকারী খাতকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেছেন পেত্র মাচিংকা।

 

এর মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা শিল্প এবং আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিগত নির্ভরতার যুগে এই খাতগুলোতে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

 

এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বায়োটেকনোলজি বা জীবপ্রযুক্তির উদ্ভাবনী প্রসার এবং পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে ইসরায়েলের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত সুনামের সাথে চেক প্রজাতন্ত্রের উৎপাদনমুখী শিল্প সক্ষমতা যুক্ত হলে তা উভয় দেশের অর্থনীতিতেই এক ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেত্র মাচিংকা তার বক্তব্যে চেক কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও সক্ষমতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি ইসরায়েলি বিনিয়োগকারী এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, চেক প্রজাতন্ত্রের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে কেবল গতানুগতিক পণ্য বা সেবার সরবরাহকারী হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না।

 

ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের সমান মর্যাদার অংশীদার এবং অত্যন্ত সক্রিয় বিনিয়োগকারী হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চেক প্রজাতন্ত্রের ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাস এবং সমতাভিত্তিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার জোরালো ও সুপ্ত আকাঙ্ক্ষাই আন্তর্জাতিক মহলের সামনে প্রতিফলিত হয়েছে।

 

বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে ইসরায়েলের স্বপক্ষে চেক প্রজাতন্ত্রের এই জোরালো অবস্থান কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত অর্থবহ। যখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা দেখা যায়, তখন প্রাগের এই অবিচল সমর্থন ইসরায়েলের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক নির্ভরতার জায়গা।

 

উভয় দেশের এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার সম্পর্ক কেবল তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেই সহায়তা করবে না, বরং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যিক সেতুবন্ধন তৈরির ক্ষেত্রেও এক অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করবে।

 

- আনাদোলু এজেন্সি