শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিন্ন বয়সের প্রেমের সম্পর্কে জড়ালেমাক্রোঁ তনয়া টিফেন অজিয়ের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

ভিন্ন বয়সের প্রেমের সম্পর্কে জড়ালেমাক্রোঁ তনয়া টিফেন অজিয়ের
ছবি : Collected

ফ্রান্সের রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গনে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে দেশটির ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর পরিবার। সম্প্রতি ফরাসি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর ৪২ বছর বয়সী কন্যা টিফেন অজিয়েরের নতুন একটি প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ্যে এসেছে।

 

২২ বছর বয়সী তরুণ অঁতোয়ান লেকোম্তের সঙ্গে তার এই সম্পর্কের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তা ইউরোপীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মা ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে দারুণ মিল থাকায় টিফেনের এই নতুন সম্পর্কটি নিয়ে চারদিকে চলছে নানা গুঞ্জন।

 

দুই দশকেরও বেশি বয়সের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও এই যুগল বর্তমানে তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এই জুটির বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পরই মূলত তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।

 

সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে অবকাশ যাপন করতে যান টিফেন ও অঁতোয়ান। সেখানে ভ্রমণের সময় অঁতোয়ান তাদের বিভিন্ন মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে টিফেন অজিয়ের নিজেও সেটি নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন।

 

এর মাধ্যমেই তাদের সম্পর্কের গুঞ্জনটি বাস্তবে রূপ নেয় এবং তা খুব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। পেশায় একজন দক্ষ আইনজীবী ও ঔপন্যাসিক টিফেনের সঙ্গে এই তরুণের সম্পর্কের এই প্রকাশ্য স্বীকৃতি দুই পরিবারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

 

টিফেন অজিয়ের ও অঁতোয়ানের এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের মনোরম সমুদ্রতীরবর্তী শহর ল্য তুকেতে। পেশাগতভাবে অঁতোয়ান লেকোম্তের পরিচয় তিনি ওই অঞ্চলের একজন কাইটসার্ফিং প্রশিক্ষক এবং একই সঙ্গে তিনি ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করছেন।

 

ভিন্ন পেশার হলেও ভ্রমণ পিয়াসী মন, উদ্যোক্তা হওয়ার জেদ এবং নানা ধরনের রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি গভীর আগ্রহই মূলত তাদের দুজনকে পরস্পরের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে বলে টিফেনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।

 

পেশাগত ব্যস্ততার বাইরেও তারা একসঙ্গে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং তাদের এই যৌথ বোঝাপড়াই সম্পর্কটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করছে। পেশাগত জীবনে টিফেন অজিয়ের কেবল একজন সফল আইনজীবী হিসেবেই পরিচিত নন, বরং সাহিত্য অঙ্গনেও তিনি নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।

 

গত ২০২৪ সালে ‘আসিস’ বা ‘Assises’ শিরোনামে একটি উপন্যাস প্রকাশ করে তিনি সাহিত্যিক হিসেবেও বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এর আগে ফরাসি জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব সিরিল হানুনার সঙ্গে তার একটি সম্পর্ক বেশ দীর্ঘ সময় ধরে গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিল। তবে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে চলতি বছরের মে মাসে।

 

এরপর নতুন করে অঁতোয়ানের সঙ্গে তার এই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়টি ফরাসি ট্যাবলয়েড ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। টিফেনের এই নতুন সম্পর্কটি বিশেষভাবে মানুষের নজর কেড়েছে তার মা ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে বয়সের ব্যবধানের অদ্ভুত মিল থাকার কারণে।

 

বর্তমান ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ২৪ বছরের বয়সের ব্যবধান রয়েছে। অতীতে ব্রিজিত যখন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, তখন বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ছিলেন তার ছাত্র। পরবর্তীতে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ২০০৭ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

 

মা ব্রিজিতের মতোই টিফেনের জীবনেও বয়সের বড় ব্যবধানের এই প্রেমের সম্পর্কটি আসার ফলে অনেকেই বিষয়টিকে ঐতিহাসিক ও কাকতালীয় হিসেবে দেখছেন। তবে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত এই সম্পর্ক নিয়ে ফরাসি ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ও উদার।

 

তিনি মেয়ের এই নতুন সম্পর্কের বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং মা হিসেবে মেয়ের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সুখকেই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছেন। শুধু তাই নয়, টিফেনের পূর্বের সংসারের দুটি সন্তানও ইতিমধ্যেই অঁতোয়ানের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একটি সহজ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

ফরাসি সমাজে বয়সের ব্যবধানের এই ধরনের সম্পর্ক নতুন না হলেও, দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পরিবারে দুই প্রজন্ম ধরে এমন ঘটনা ঘটার কারণে তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

 

যদিও দুই পক্ষই প্রাপ্তবয়স্ক এবং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সম্পর্ককে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবনের এই নানামুখী সমীকরণ আগামী দিনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

- দ্য স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ডেইলি বিস্ট