শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ বছর বয়সী ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, কাঠগড়ায় নারী শিক্ষিকা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

১৬ বছর বয়সী ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, কাঠগড়ায় নারী শিক্ষিকা
ছবি : Collected

যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটনে নিজ স্কুলের এক কিশোর ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক ও শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে এক সাবেক নারী শিক্ষিকার বিচারকাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র জায়গায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যকার বিশ্বাসভঙ্গের এই ঘটনা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

অভিযুক্ত ওই শিক্ষিকার নাম ব্রনওয়েন জেমস, যাঁর বয়স বর্তমানে ৩০ বছর। তিনি সাউদাম্পটনের বিটার্ন পার্ক স্কুলের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের একজন সাবেক শিক্ষিকা। মাত্র ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রের বয়সের অপরিপক্বতা ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এবং নিজের শিক্ষকসুলভ পদমর্যাদার চরম অপব্যবহার করে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

 

যুক্তরাজ্যের উইনচেস্টার ক্রাউন আদালতে বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী এডওয়ার্ড কালভার এই অনৈতিক সম্পর্কের সূত্রপাত ও বিস্তারের বিস্তারিত বিবরণ বিচারকমণ্ডলীর সামনে তুলে ধরেন।

 

তিনি আদালতকে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটে প্রথমে ওই কিশোর ছাত্রের বন্ধুত্বের অনুরোধ বা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এড়িয়ে গেলেও পরবর্তীতে তা গ্রহণ করেন। সেখান থেকেই মূলত তাদের মধ্যে নিয়মিত বার্তা বিনিময় শুরু হয়।

 

শিক্ষিকা ও ছাত্রের মধ্যকার এই সাধারণ কথোপকথন খুব দ্রুতই গণ্ডি পেরিয়ে প্রেমালাপ ও ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। আইনজীবী কালভার আরও জানান, যোগাযোগের একপর্যায়ে তারা সাউদাম্পটনের ওয়েস্টন শোর এলাকায় গোপনে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেখানে একটি গাড়ির ভেতর একে অপরকে চুম্বন করেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অসম সম্পর্ক ক্রমশ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর অনৈতিক পর্যায়ে পৌঁছায়। আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগে বলা হয়েছে, টেলিভিশনে যখন উইম্বলডন টেনিস টুর্নামেন্ট সম্প্রচার চলছিল, সে সময় একদিন এই জুটি শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন।

 

শিক্ষিকা ব্রনওয়েন জেমস ওই কিশোরের সঙ্গে অত্যন্ত আবেগময় সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তিনি ওই ছাত্রকে ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন এবং দুজন মিলে লোকচক্ষুর অন্তরালে দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রবলভাবে প্রকাশ করেছিলেন।

 

এই মামলার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হিসেবে আইনজীবী উল্লেখ করেন যে, একান্তে ব্যক্তিগত মেলামেশার সময়ও ওই শিক্ষিকা তরুণ ছাত্রকে নির্দেশ দিতেন যেন সে তাঁকে সম্মানসূচক ‘মিস’ বলে সম্বোধন করে। এটি মূলত ওই কিশোরের ওপর মানসিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার একটি অত্যন্ত সুকৌশলী পদক্ষেপ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ভুক্তভোগী ওই কিশোর শিক্ষার্থী তার তিক্ত মানসিক অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছে। সে আদালতকে জানায়, বয়সের কারণে শুরুতে শিক্ষিকার সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তার কাছে ‘ভালো’ মনে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে যে, তাকে মূলত সুকৌশলে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল।

 

শিক্ষিকা নিজের প্রভাব খাটিয়ে তাকে মানসিকভাবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন, যা তাকে এক ধরনের মানসিক বন্দিদশায় ফেলে দিয়েছিল। বিটার্ন পার্ক স্কুলে কর্মরত থাকাকালীনই এসব অনৈতিক ও আইনবিরুদ্ধ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

 

তবে অভিযুক্ত শিক্ষিকা ব্রনওয়েন জেমস শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা এসব গুরুতর অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। আদালতে তিনি তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

 

সেখানে তিনি দাবি করেছেন, ওই কিশোর শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা পদমর্যাদার অপব্যবহারের অভিযোগও নাকচ করে দিয়েছেন।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বিচারব্যবস্থায় এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বুধবার আইনি প্রক্রিয়ার কিছু জটিলতার কারণে পূর্ববর্তী জুরি বা বিচারকমণ্ডলী ভেঙে দেওয়া হয়, যার ফলে বিচারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল।

 

তবে নতুন জুরিদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে উইনচেস্টার ক্রাউন আদালতে পুনরায় এই স্পর্শকাতর মামলার বিচারকাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের মতো দেশে যেখানে শিশু সুরক্ষার আইন অত্যন্ত কঠোর, সেখানে একজন শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষিকাকে কঠোর আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

- নিউইয়র্ক পোস্ট