বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানোর পর ইউরোপীয়দের এই পদক্ষেপ মূলত ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে নিজেদের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি জোরালো প্রচেষ্টা। ইউরোপীয় শক্তিগুলো চায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের অবিলম্বে সে দেশে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপের এই তিন দেশ ‘স্ন্যাপব্যাক’ পদ্ধতি ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করতে পারে। এই পদ্ধতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এক্ষেত্রে চুক্তির অন্য স্বাক্ষরকারী দেশ, অর্থাৎ রাশিয়া বা চীন, ভেটো প্রয়োগ করতে পারবে না। ফলে, প্রক্রিয়াটি শুরু হলে ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই ইরানের ওপর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করাসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা ফিরে আসবে।
ইউরোপের এই হুঁশিয়ারিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের চেষ্টা হবে একটি ‘বিরাট ভুল’ এবং এটি ইরানের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্কের ‘সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়’ রচনা করতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইউরোপের ভূমিকার চিরতরে অবসান ঘটবে এবং পারমাণবিক সংকট সমাধান আরও জটিল হয়ে পড়বে।
---