এই চুক্তি অনুযায়ী, বার্সেলোনা বন্দরের ৭টি ক্রুজ টার্মিনালের মধ্যে ২টি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর ফলে বন্দরের একযোগে যাত্রী ধারণক্ষমতা ৩৭,০০০ থেকে কমে ৩১,০০০-এ নেমে আসবে। শহরের মেয়র জাউমে কোলাবোনি এই সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী আখ্যা দিয়ে বলেন, "শহরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রুজ জাহাজের অবাধ বৃদ্ধিকে সীমাবদ্ধ করা হলো। সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটকদের চাপ নিয়ে বার্সেলোনার অধিবাসীরা একাধিকবার বিক্ষোভ করেছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় এই বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই (জানুয়ারি-মে) ক্রুজ জাহাজের আগমন ২১% এবং যাত্রী সংখ্যা ২০% বেড়ে ১.২ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক পর্যটকদের চাপ শহরের ঐতিহাসিক স্থান, যেমন সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া ব্যাসিলিকা এবং অন্যান্য অবকাঠামোর উপর তীব্র প্রভাব ফেলছিল।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন থেকে সেইসব ক্রুজ জাহাজকে অগ্রাধিকার দেবে, যেগুলো বার্সেলোনাকে তাদের যাত্রার শুরু বা শেষের ‘হোম পোর্ট’ হিসেবে ব্যবহার করে। এর ফলে পর্যটকরা কেবল কয়েক ঘণ্টার জন্য না এসে শহরে বেশিদিন অবস্থান করবেন এবং বেশি অর্থ ব্যয় করবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য টেকসই বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এই পদক্ষেপের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত দিকও রয়েছে। টার্মিনাল সংস্কারের ফলে জাহাজগুলো বন্দরের স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবে। এতে বন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় জাহাজের ইঞ্জিন চালু রাখতে হবে না, যা বায়ু দূষণ কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে সমুদ্রবন্দরগুলোকে এই ধরনের ‘অনশোর পাওয়ার সাপ্লাই’ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বার্সেলোনার এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণেও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
---