হাঙ্গেরির এই কঠোর অবস্থান কেবল ইউক্রেনকেই নয়, মলদোভাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ব্রাসেলসের নীতি অনুযায়ী, এই দুটি দেশের ইইউতে যোগদানের প্রক্রিয়াটি একসাথে যুক্ত (কাপলড)। ফলে হাঙ্গেরির একক বাধার কারণে উভয় দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ লাভের আলোচনা শুরু করতে পারছে না, যা কিয়েভ এবং অন্যান্য ইইউ সদস্যদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
'ইউরোনিউজ'-এর সিইও এবং সম্পাদকীয় পরিচালক ক্লস স্ট্রুঞ্জের সাথে আলোচনায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি স্পষ্ট জানান যে, এই অচলাবস্থা ভাঙতে তিনি ভিক্টর অরবানকে নতুন কোনো প্রস্তাব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না। জেলেনস্কি বলেন, "আমি মনে করি না যে আমাকে ভিক্টর অরবানকে কিছু প্রস্তাব করতে হবে। বরং আমি মনে করি, ভিক্টর অরবানকেই ইউক্রেনের জন্য সমর্থনের প্রস্তাব দেওয়া উচিত, যে ইউক্রেন রাশিয়া থেকে সমগ্র ইউরোপকে রক্ষা করছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এমনকি এই যুদ্ধের সময়েও আমরা তার (অরবান) কাছ থেকে কোনো সমর্থন পাইনি। ইইউতে ইউক্রেনকে বাধা দেওয়া ভিক্টরের পক্ষ থেকে পুতিনকে দেওয়া অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট সমর্থন। এবং এটি আমার মতে, অবশ্যই ভালো কিছু নয়।"
গত বছরের জুলাইয়ে হাঙ্গেরি যখন ইইউ কাউন্সিলের ঘূর্ণায়মান প্রেসিডেন্সি গ্রহণ করে, তখন থেকেই এই ভেটোর আনুষ্ঠানিক প্রয়োগ শুরু হয়। বুদাপেস্টের এই পদক্ষেপ অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ক্ষুব্ধ করেছে, যারা কিয়েভের সদস্যপদকে ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা গ্যারান্টি হিসেবে দেখছে। অরবান সম্প্রতি ইউক্রেনের সদস্যপদের বিষয়ে হাঙ্গেরির নাগরিকদের মতামত জানতে একটি 'জাতীয় পরামর্শ' আয়োজন করেন এবং এর নেতিবাচক ফলাফলকে তিনি তার ভেটোর পক্ষে 'ম্যান্ডেট' বা গণরায় হিসেবে ব্যবহার করছেন।
সদস্যপদ নিয়ে কোনো আপস করতে নারাজ জেলেনস্কি। ইইউতে ভেটো ক্ষমতা হ্রাস বা নতুন সদস্যদের জন্য 'প্রবেশন পিরিয়ড'-এর মতো প্রস্তাবনাগুলোকেও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেন পূর্ণাঙ্গ এবং সমান অধিকারের সদস্যপদ চায়। "আমার মতে, আপনি ইইউর আধা-সদস্য হতে পারবেন না," তিনি বলেন।
হাঙ্গেরির আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচন এবং বিরোধী নেতা পিটার মাগিয়ারের উত্থানের বিষয়েও জেলেনস্কি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, হাঙ্গেরির জনগণের পছন্দকে প্রভাবিত করার অধিকার কারও নেই এবং কূটনীতিকে অবশ্যই "ব্যক্তিসত্ত্বার" ঊর্ধ্বে থাকতে হবে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি তার বক্তব্যে ভিক্টর অরবানকে ইউরোপীয় কমিশনের মূল্যায়নকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। ইউরোপীয় কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে যে, কিয়েভ আলোচনা শুরু করার জন্য সমস্ত আইনি ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পূরণ করেছে। জেলেনস্কি বলেন, "আমরা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য, আমাদের জীবনের জন্য যুদ্ধ করছি।
আমরা অন্য কোনো রাজনৈতিক ফ্রন্টলাইন খোলা হোক তা চাই না। আমরা সত্যিই চাই হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী আমাদের সমর্থন করুন, অন্ততপক্ষে আমাদের পথরোধ না করুন।" তিনি ইইউর নিয়মের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "যদি নিয়ম থাকে এবং আমরা তা মেনে চলি, তবে আমরা সম্মান চাই। এটি কেবল আমাদের সম্মান নয়, হাঙ্গেরির নেতারও ইইউর নিয়মের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত, কারণ হাঙ্গেরিও ইইউর সদস্য। এগুলোই নিয়ম।"