সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুরক্ষার বদলে ১ বিলিয়ন ইউরোর প্রকল্পে মনোযোগ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৪৭ এএম

সুরক্ষার বদলে ১ বিলিয়ন ইউরোর প্রকল্পে মনোযোগ
ছবি: AP

ফ্রান্সের সর্বোচ্চ অডিট দফতর (কুর দেস কম্পতে) বৃহস্পতিবার এক বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে প্যারিসের বিশ্বখ্যাত লুভর মিউজিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়েছে। সম্প্রতি জাদুঘর থেকে রাজকীয় রত্ন চুরির ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, জাদুঘরের ধারাবাহিক পরিচালকরা দর্শনার্থী ও মিডিয়ার কাছে আকর্ষণীয় নতুন প্রকল্প এবং ১ বিলিয়ন ইউরোর সংস্কার কাজকে যতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, মৌলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ততটাই উপেক্ষা করেছেন।

 

অডিট প্রতিবেদনে লুভরের বর্তমান পরিচালক লরেন্স দেস কারস এবং তার পূর্বসূরি জাঁ-লুক মার্টিনেজের বিনিয়োগ অগ্রাধিকারকে কঠোরভাবে সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, "নিউ রেনেসাঁ" নামক একটি প্রকল্পের আওতায় মোনালিসা কক্ষের সংস্কার এবং একটি অতিরিক্ত প্রবেশদ্বার তৈরির জন্য ১ বিলিয়ন ইউরোর বেশি ব্যয় করা হয়েছে, অথচ নিরাপত্তা আধুনিকীকরণে বিনিয়োগ ছিল অপ্রতুল।

 

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, লুভরের অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও তা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ক্যামেরা স্থাপনের গতিও অত্যন্ত ধীর। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাদুঘরের সবচেয়ে ব্যস্ততম অংশ, যেখানে মোনালিসার চিত্রকর্মটি রয়েছে, সেই ডেনন উইংয়ের মাত্র ৬৪ শতাংশ এলাকা ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্যামেরার আওতায় এসেছে, যা পাঁচ বছর আগেও ৫১ শতাংশ ছিল।

 

সিএফডিটি এবং এসইউডি-এর মতো শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বছরের পর বছর ধরে রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকীকরণে বিনিয়োগের এই ঘাটতি নিয়ে সতর্কতা জারি করে আসছিল। এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই, ফ্রান্সের সংস্কৃতি মন্ত্রী রাশিদা দাতিও জাদুঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। তিনি জানান, চুরির সময় অ্যালার্ম ব্যবস্থা সচল থাকলেও, "অনুপ্রবেশ ও চুরির ঝুঁকিকে দীর্ঘস্থায়ী ও কাঠামোগতভাবে অবমূল্যায়ন" করা হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল "অপ্রতুল" এবং প্রোটোকলগুলো "সম্পূর্ণরূপে সেকেলে"।

 

লুভর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বছরের শেষের আগেই অনুপ্রবেশ-বিরোধী ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, চোরেরা একটি ট্রাক-মাউন্টেড বিশেষ ক্রেন ব্যবহার করে অ্যাপোলো গ্যালারির জানালায় পৌঁছে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আটটি রাজকীয় রত্ন চুরি করে নিয়ে যায়। এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। প্রসিকিউটরদের বরাত দিয়ে ফরাসি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার আরও দুই ব্যক্তিকে এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে "সংগঠিত চুরির" এবং ৩৮ বছর বয়সী এক নারীর বিরুদ্ধে "সহযোগিতা"র অভিযোগ আনা হয়েছে। উভয়কেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যদিও তারা জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। এর আগে গত সপ্তাহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে একজনকে ডিএনএ প্রমাণের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। প্যারিসের প্রসিকিউটর লর বেকুউ নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনাস্থলে "ডিএনএ ট্রেস" পাওয়া গেছে।

 

- Euro News