রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পোল্যান্ড ও রোমানিয়া অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:১৬ পিএম

পোল্যান্ড ও রোমানিয়া অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে
ছবি: AP

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ন্যাটো জোটের আকাশসীমায় রাশিয়ার ড্রোনের অনুপ্রবেশ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পোল্যান্ড এবং রোমানিয়া তাদের সীমান্তে একটি নতুন ও অত্যাধুনিক ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন শুরু করেছে। এই পদক্ষেপটি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নরওয়ে থেকে তুরস্ক পর্যন্ত ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তকে প্রযুক্তিগতভাবে এতটাই সুরক্ষিত করার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যাতে মস্কোর বাহিনী ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়।

 

এই ধরনের বিশেষায়িত প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয় গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে, যখন প্রায় ২০টি রাশিয়ান ড্রোন পোল্যান্ডের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পোল্যান্ডকে তার বহুমূল্যবান যুদ্ধবিমান পাঠাতে হয়েছিল, যা ছিল মাত্র কয়েক হাজার ডলার মূল্যের ড্রোনের বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল সামরিক পদক্ষেপ। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রোমানিয়াতেও একই ধরনের ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে।

 

শুধু তাই নয়, কোপেনহেগেন, মিউনিখ, বার্লিন এবং ব্রাসেলসের মতো ইউরোপীয় শহরের প্রধান বিমানবন্দরগুলোও রহস্যজনক ড্রোনের উপস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল, যা ইউরোপজুড়ে বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এই নতুন হুমকির মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত 'মেরোপস' নামক এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি মোতায়েন করা হচ্ছে। এটি আকারে বেশ ছোট, যা একটি পিক-আপ ট্রাকের পেছনে সহজেই স্থাপন করা যায়।

 

ন্যাটো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে শত্রু ড্রোনকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে এবং তার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এমনকি যখন স্যাটেলাইট বা ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা জ্যাম বা বাধাগ্রস্ত করা হয়, তখনও এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম।

 

ন্যাটো অ্যালায়েড ল্যান্ড কমান্ডের সহকারী চিফ অফ স্টাফ, কর্নেল মার্ক ম্যাকলেলান এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করে বলেন, "এই ব্যবস্থাটি আমাদের অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ড্রোন শনাক্ত করার ক্ষমতা দেয়। এটি কম খরচে ড্রোনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে এবং সেগুলোকে ভূপাতিত করতে পারে, যা একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী।" কর্মকর্তারা জানান, মেরোপস মূলত 'ড্রোনের বিরুদ্ধে ড্রোন' উড়িয়ে কাজ করে।

 

ন্যাটোর অ্যালায়েড ল্যান্ড কমান্ডের প্রধান, জেনারেল ক্রিস ডনাহু বলেছেন, রাশিয়ার বৃহৎ সামরিক বাহিনী এবং জনবলের সুবিধার বিপরীতে ন্যাটোকে অবশ্যই তার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করতে হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ড্রোনের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এক প্রধান ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মেরোপস ব্যবস্থাকে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ হলো এটি ইউক্রেনের রণাঙ্গনে সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। ন্যাটো কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, পোল্যান্ড ও রোমানিয়ার পাশাপাশি ডেনমার্কও এই প্রযুক্তি সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

- ABC News