সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেজোসের ব্লু অরিজিনের নিউ গ্লেন রকেটের দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ স্থগিত

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৩৩ পিএম

বেজোসের ব্লু অরিজিনের নিউ গ্লেন রকেটের দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ স্থগিত
ছবি: AP

জেফ বেজোসের মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিনের উচ্চাভিলাষী 'নিউ গ্লেন' মেগারকেটের দ্বিতীয় উৎক্ষেপণটি রবিবার বিকেলে নির্ধারিত থাকলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে তা বাতিল করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বুধবারের (১২ নভেম্বর) আগে এই রকেটটি উৎক্ষেপণের আর কোনো সম্ভাবনা নেই। 'এনজি-২' নামের এই মিশনটি নিউ গ্লেনের দ্বিতীয় পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হলেও, এটিই হতে যাচ্ছে এর প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট, যা নাসার জন্য মঙ্গলে মহাকাশযান পাঠাবে।

 

ব্লু অরিজিন সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ জানিয়েছে, আবহাওয়াই এই বিলম্বের মূল কারণ। বিশেষত "কিউমুলাস মেঘ সংক্রান্ত" (cumulus cloud rule) এই উৎক্ষেপণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ধরনের কিউমুলাস মেঘের (যা বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র ধারণ করে) মধ্য দিয়ে রকেট উৎক্ষেপণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সংস্থাটি জানিয়েছে, "পূর্বাভাসকৃত আবহাওয়া এবং সমুদ্রের পরিস্থিতি বিবেচনায়, আমাদের পরবর্তী উৎক্ষেপণের চেষ্টা ১২ নভেম্বর বুধবারের আগে সম্ভব নয়।"

 

সংস্থাটি আরও যোগ করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি শাটডাউন বা অচলাবস্থার কারণে বাণিজ্যিক রকেট উৎক্ষেপণে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা এড়াতে তারা ইউএস ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) সাথে কাজ করে বুধবার সন্ধ্যায় একটি নতুন উৎক্ষেপণ-সময় (লঞ্চ উইন্ডো) সুরক্ষিত করেছে।

 

ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে এই 'এনজি-২' মিশনটি উৎক্ষেপণ করা হবে। এটি মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার 'এসকাপেড' (ESCAPADE) মিশনের অংশ হিসেবে দুটি যমজ মহাকাশযান মঙ্গলের উদ্দেশ্যে বহন করবে। এই যান দুটি লাল গ্রহটিকে প্রদক্ষিণ করে এর চৌম্বক ক্ষেত্র এবং বায়ুমণ্ডলের গতিপ্রকৃতি পরিমাপ করবে। ব্লু অরিজিন জানিয়েছে, নিউ গ্লেন রকেটটি নাসার 'কমিউনিকেশনস সার্ভিসেস প্রজেক্ট'-এর সহায়তায় ভায়াস্যাট প্রযুক্তিও বহন করবে।

 

পৃথিবী প্রদক্ষিণকারী প্রথম আমেরিকান জন গ্লেনের নামে নামকরণ করা এই রকেটটি এখন পর্যন্ত নির্মিত অন্যতম বৃহৎ মহাকাশযান। এটি ৯৮ মিটারেরও বেশি লম্বা এবং প্রচলিত বাণিজ্যিক রকেট সিস্টেমের তুলনায় দ্বিগুণ পেলোড বহন করতে সক্ষম। এটি লো আর্থ অরবিটে (পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ) ৪৫ মেট্রিক টন এবং জিওস্টেশনারি ট্রানজিট অরবিটে ১৩ মেট্রিক টনেরও বেশি পেলোড পৌঁছে দিতে পারে।

 

নিউ গ্লেনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর পুনঃব্যবহারযোগ্যতা (reusability)। এর প্রথম ধাপটি (বুস্টার) ন্যূনতম ২৫টি ফ্লাইটের জন্য নকশা করা হয়েছে। এটি তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন জ্বালানিও ব্যবহার করে-এর প্রথম ধাপে তরল অক্সিজেন ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ওপরের ধাপে তরল হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়।

 

তবে, ব্লু অরিজিন এখনও এই পুনঃব্যবহারযোগ্যতার বিষয়টি বাস্তবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। গত ১৬ জানুয়ারি কেপ ক্যানাভেরাল থেকে নিউ গ্লেনের প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে (মেইডেন ফ্লাইট) রকেটের উপরের অংশ সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছালেও, অবতরণের আগেই এর বুস্টারটি হারিয়ে গিয়েছিল। এই দ্বিতীয় ফ্লাইটে বুস্টারটিকে সফলভাবে অবতরণ করানোর আশা করছে সংস্থাটি, যা ইলন মাস্কের স্পেসএক্স-এর সাথে প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থান শক্ত করবে।

 

- Euro News