এফএসবির অভিযোগ, ইউক্রেন-সমর্থিত একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ওই কিশোর পবিত্র উপাসনালয়ে হামলার ছক কষেছিল। এই ঘটনা রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান সংঘাতে এক নতুন ও উদ্বেগজনক মাত্রা যোগ করেছে। এফএসবির প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে রাশিয়ার বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী অঞ্চল কালিনিনগ্রাদে। তদন্তে জানা গেছে, আটককৃত ওই কিশোর অনলাইনে কিয়েভ-সমর্থিত একটি গোষ্ঠীর নিয়োগকারীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে।
ইউক্রেনীয় প্রচেষ্টাকে সহায়তা করার লক্ষ্যে সে স্বেচ্ছায় এই হামলার দায়িত্ব নেয় এবং একটি গির্জাকে তার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেয়। এফএসবির প্রকাশ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি ছোট গির্জার নিকটবর্তী স্থান থেকে ওই সন্দেহভাজনকে আটক করা হচ্ছে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একাধিক ‘মলোটভ ককটেল’ বা হাতে তৈরি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কিশোরের মোবাইল ফোন থেকে প্ররোচনাকারীর পাঠানো নির্দেশনাসম্বলিত বেশ কিছু বার্তা উদ্ধার করা হয়েছে, যা হামলার পরিকল্পনার সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। তবে এফএসবি সেই প্ররোচনাকারীর নির্দিষ্ট পরিচয় বা সংগঠনের নাম এখনই প্রকাশ করেনি। রুশ কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা বাহিনীর অধীনে থাকা বেশ কয়েকটি উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িত।
মস্কোর দাবি, ইউক্রেনীয় বিশেষ বাহিনী অন্তর্ঘাতমূলক বা ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ রুশ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা কিশোরদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা মানসিকভবে প্রভাবিত করে এসব ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে নিয়োগ করার চেষ্টা চলছে। আটক ওই কিশোরের বিরুদ্ধে বর্তমানে সন্ত্রাসবাদের গুরুতর অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেই এফএসবি আলতাই অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত করার পরিকল্পনা নস্যাৎ করার খবর জানিয়েছিল। সেখানে দুই স্থানীয় ব্যক্তি ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে রেলওয়ের অবকাঠামো ধ্বংস করতে রাজি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারি অভিযানের সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে পাল্টা গুলিতে ওই দুই অভিযুক্ত নিহত হয়।
পরপর এমন ঘটনা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মস্কোর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অগ্রগতির মুখে ইউক্রেনীয় বাহিনী পিছু হটছে এবং সামরিকভাবে ব্যর্থ হয়ে এখন তারা এমন ‘সন্ত্রাসী কৌশল’ বেছে নিয়েছে।
বেসামরিক স্থাপনা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার এই চেষ্টার মাধ্যমে সংঘাতকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন রুশ কর্মকর্তারা। এফএসবির এই সফল অভিযান রাশিয়ার ধর্মীয় স্থাপনা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয়।