মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সংস্থা ‘তাস’-কে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে চেমেজভ জানান, ২০২২ সালে ইউক্রেন সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর থেকে রাশিয়া তাদের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্র উৎপাদন নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করেছে।
তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেন যে, বর্তমানে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় রাশিয়া অনেক বেশি পরিমাণে আর্টিলারি শেল বা কামানের গোলা এবং এরিয়াল বোমা তৈরি করছে। তাঁর ভাষ্যমতে, “আমরা যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, পদাতিক বাহিনীর জন্য সাঁজোয়া যান, হাউইটজার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং ড্রোনসহ আধুনিক সব সমরাস্ত্র বিশাল পরিমাণে সরবরাহ করছি।”
কৌশলগত কারণে তিনি উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানালেও জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের শত্রুরা এই বিপুল উৎপাদনের কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি।” বিগত তিন বছরে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাতের এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির বিষয়টি ক্রেমলিনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে সামনে এনেছেন। এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছিলেন যে, বিশেষ সামরিক অভিযান চলাকালীন দেশটির গোলাবারুদ উৎপাদন চৌদ্দ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
একইসাথে ড্রোন উৎপাদন চার গুণ এবং সাঁজোয়া অস্ত্রের উৎপাদন সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়, যা যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। একদিকে যখন অভ্যন্তরীণ অস্ত্র উৎপাদন আকাশছোঁয়া, তখন অন্যদিকে ইউক্রেনে পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র সরবরাহের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার মতে, পশ্চিমাদের এই সামরিক সহায়তা সংঘাতের ফলাফল পরিবর্তন করতে পারবে না, বরং তা যুদ্ধকে কেবল দীর্ঘায়িত করবে এবং রক্তপাত বাড়াবে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেও ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, রাশিয়া রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে তাদের লক্ষ্য অর্জনে আগ্রহী। তিনি বলেন, “আমরা আলোচনার প্রক্রিয়ার জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।” তবে মস্কোর অভিযোগ, পশ্চিমা মিত্রদের উৎসাহ ও প্ররোচনায় কিয়েভ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইছে। এ প্রসঙ্গে শান্তি আলোচনার ব্যর্থতার ইতিহাসও উঠে এসেছে।
ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড আরাখামিয়ার একটি পূর্ববর্তী দাবির সূত্র ধরে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কিয়েভকে শান্তি আলোচনা থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যদিও জনসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও মস্কো মনে করে যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। রোসটেক প্রধানের এই সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং রাশিয়ার অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশটি দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে রয়েছে।