জেনারেল হজেসের মতে, ইউরোপ হলো আমেরিকার বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার। তাই ইউরোপের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বা রাশিয়ার আগ্রাসনে মহাদেশটির স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে মার্কিন অর্থনীতির ওপর। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ইউক্রেনে ভ্লাদিমির পুতিনকে থামানো না গেলে এই সংঘাত ন্যাটো ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
এ ছাড়া চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যে, পশ্চিমা বিশ্ব আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনের অগ্রাধিকার তালিকা নিয়েও কথা বলেন জেনারেল হজেস। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির তালিকায় ইউরোপের অবস্থান চতুর্থ। তাদের প্রধান অগ্রাধিকার যথাক্রমে পশ্চিম গোলার্ধ (উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা), ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্য।
তিনি ধারণা করছেন, এর ফলে ইউরোপ থেকে, বিশেষ করে জার্মানি ও রোমানিয়া থেকে মার্কিন সেনা সংখ্যা কমানো হতে পারে। তবে রামস্টেইন বিমানঘাঁটির মতো কৌশলগত স্থাপনাগুলো আমেরিকা নিজেদের স্বার্থেই বজায় রাখবে বলে তিনি মনে করেন। জার্মানির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্রয় এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইউরোপীয় নির্ভরতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। হজেস জানান, যুদ্ধবিমানে ‘কিল সুইচ’ বা দূরনিয়ন্ত্রিত অচল করার ব্যবস্থা থাকার জল্পনাটি অমূলক।
তবে সফটওয়্যার আপডেটের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকে। তিনি মনে করেন, ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক আস্থার স্বার্থেই ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না যা মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে। জার্মানি বর্তমানে তাদের সামরিক সরঞ্জামের প্রায় ৮০ শতাংশ ইউরোপীয় উৎস থেকে সংগ্রহ করছে, যা ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের জন্য কোনো হুমকি নয় বরং সক্ষমতা বৃদ্ধিরই অংশ।
সাক্ষাৎকারে পেন্টাগনের বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন হজেস। অভিজ্ঞ জেনারেল ও অ্যাডমিরালদের বরখাস্ত এবং নারীদের সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে হেগসেথের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বাহিনীর মনোবল ও পেশাদারিত্বের ওপর প্রভাব ফেলছে।
হজেস মনে করেন, সেনাবাহিনীতে নারীদের উপস্থিতি কোনো ‘প্রগতিশীল বিলাসিতা’ নয়, বরং জনবল ও মেধার সংকট মোকাবিলার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। সংবিধানের প্রতি শপথবদ্ধ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বেআইনি আদেশ প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।