প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়ার আগ্রাসনের জেরে ইউক্রেন বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। দেশটির বিশাল বাজেট ঘাটতি পূরণে প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ইউরোর প্রয়োজন। ডোমব্রোভস্কিস মনে করেন, ইউরোপে জব্দকৃত রাশিয়ান সম্পদের বিপরীতে ‘ক্ষতিপূরণ ঋণ’ বা রিপারেশন লোন প্রদানই হলো এই মুহূর্তে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
তার মতে, অন্য যেকোনো বিকল্প ব্যবস্থার তুলনায় এটিই একমাত্র পথ, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র বা সাধারণ করদাতাদের ওপর বাড়তি কোনো আর্থিক বোঝা ছাড়াই ইউক্রেনকে বড় ধরনের সহায়তা দেওয়া সম্ভব। যেহেতু ইউক্রেন ইতিমধ্যেই ঋণের ভারে জর্জরিত, তাই তাদের নতুন করে সাধারণ ঋণ দেওয়া টেকসই কোনো সমাধান নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এই পরিকল্পনায় প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বেলজিয়াম। ইউরোপের জব্দকৃত রুশ সম্পদের সিংহভাগই বেলজিয়ামে গচ্ছিত থাকায় এবং মস্কোর পক্ষ থেকে আইনি প্রতিশোধের ভয়ে দেশটি এই পদক্ষেপে দ্বিধান্বিত। এ প্রসঙ্গে বেলজিয়াম সরকারকে উদ্দেশ্য করে লাটভিয়ান এই কমিশনার কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার করলে ভবিষ্যতে আরও বেশি হুমকির সম্মুখীন হতে হবে। আমাদের অবশ্যই এই চাপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”
সাক্ষাৎকারে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের বিষয়টিও উঠে আসে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রস্তাবিত ২৮-দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপজুড়ে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে, যা অনেকের মতে মস্কোর স্বার্থের অনুকূলে। এর বিপরীতে ডোমব্রোভস্কিস ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান পরিষ্কার করে কিছু ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা টেনে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, যেকোনো শান্তি প্রক্রিয়ায় ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতাকে কোনোভাবেই সংকুচিত করা যাবে না, যাতে ভবিষ্যতে তারা অরক্ষিত হয়ে না পড়ে। একইসাথে, যুদ্ধ-পরবর্তী যেকোনো বন্দোবস্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি।
আলোচনার শেষ অংশে ডোমব্রোভস্কিস তোষণনীতির ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে দেন। তিনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আগ্রাসনকারীকে তোষণ বা ছাড় দিলে আগ্রাসন কেবল বাড়েই।”
তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলাফল যদি রাশিয়ার পক্ষে যায় এবং তারা নিজেদের জয়ী মনে করে, তবে এই যুদ্ধ কেবল ইউক্রেনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাশিয়া প্রকাশ্যে ইইউ এবং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতেও আগ্রাসনের হুমকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনই কঠোর অবস্থান না নিলে সংঘাত পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়তে পারে।