ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং ইউক্রেনীয় আলোচকরা একটি গ্রহণযোগ্য শান্তি কাঠামোর রূপরেখা চূড়ান্ত করতে নিবিড় আলোচনায় বসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
২০২২ সালে শুরু হওয়া রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের চলমান প্রতিরোধের এই সন্ধিক্ষণে, একটি টেকসই শান্তি চুক্তির খসড়া তৈরি করাই এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা। তবে আলোচনার ঠিক আগ মুহূর্তে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরণের রদবদল ঘটেছে। শুক্রবার ইউক্রেনের প্রভাবশালী চিফ অফ স্টাফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রধান আলোচক আন্দ্রি ইয়ারমাক পদত্যাগ করেছেন।
জ্বালানি খাত থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগে ইয়ারমাকের বাড়িতে দুর্নীতি দমন তদন্তকারীদের তল্লাশির পর এই ঘটনা ঘটে, যা প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সরকারের ওপর নতুন করে অভ্যন্তরীণ চাপ সৃষ্টি করেছে। ইয়ারমাকের অনুপস্থিতিতে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলে এবার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আন্দ্রি হনাতভ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান রুস্তেম উমেরভ।
কূটনীতিকদের মূল মনোযোগ এখন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ২৮-দফা শান্তি পরিকল্পনার সংশোধনীর দিকে। ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি প্রাথমিক পরিকল্পনাটিতে ডনবাস অঞ্চল রাশিয়াকে ছেড়ে দেওয়া, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর আকার সীমিত করা এবং ন্যাটোতে যোগদানে নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়গুলো ছিল।
কিয়েভের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই বিষয়গুলো নিয়ে সমালোচনার পর ট্রাম্প এটিকে একটি 'ধারণা' বা পরিবর্তনযোগ্য মানচিত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। জানা গেছে, ফ্লোরিডার আলোচনার পরপরই উইটকফ এবং কুশনার পরিবর্তিত পরিকল্পনাটি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে কথা বলতে মস্কো যাবেন। আবাসন ব্যবসার পটভূমি থেকে আসা ট্রাম্পের এই দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রথাগত কূটনীতির চেয়ে সরাসরি সমঝোতা বা 'ডিল' করায় বেশি পারদর্শী।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন যে, মার্কিন পক্ষ একটি গঠনমূলক মনোভাব প্রদর্শন করছে এবং আসন্ন দিনগুলোতে যুদ্ধের একটি সম্মানজনক সমাপ্তি টানা সম্ভব হবে। তবে আলোচনার টেবিলে শান্তির বার্তা থাকলেও রণাঙ্গনে সংঘাত থামেনি। শনিবার ও রবিবার কিয়েভ ও এর আশেপাশের অঞ্চলে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আবারও মনে করিয়ে দেয়।