এলিসি প্রাসাদের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে দুই রাষ্ট্রপ্রধান মূলত একটি ‘ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তি’ প্রতিষ্ঠার শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করবেন। জেনেভায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা রক্ষার্থেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। একইসঙ্গে, এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়টিতেও জোর দেওয়া হবে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, "আলোচনা প্রক্রিয়াকে ফলপ্রসূ করতে এবং শান্তির পথ সুগম করতে আমরা সোমবার প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে প্যারিসে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।" তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, পুতিন যদি সোভিয়েত সাম্রাজ্য পুনর্গঠনের ‘বিভ্রমমূলক’ আশা ত্যাগ করেন এবং ইউক্রেনকে দমনের চেষ্টা বন্ধ করেন, তবেই শান্তি অর্জন সম্ভব।
তার এই মন্তব্য রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের দৃঢ় অবস্থানকেই স্পষ্ট করে। কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্ররা চলমান শান্তি আলোচনায় নিজেদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর, যার প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে এই বৈঠকে। প্যারিসের এই বৈঠকের সময়টি কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বর্তমানে ইউক্রেনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থান করছে এবং সেখানে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে শান্তি পরিকল্পনার খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি রবিবার নাগাদ এই আলোচনার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আশা করছেন। অন্যদিকে, মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের এই সপ্তাহের শেষ দিকে মস্কো সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তারা রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। ফলে প্যারিসের বৈঠকটি ওয়াশিংটন ও মস্কোর আলোচনার মধ্যবর্তী একটি সংযোগ সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জেলেনস্কি ফ্রান্স সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। এর মধ্যে ফ্রান্সের কাছ থেকে ১০০টি রাফাল যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্যারিসের এই আসন্ন বৈঠকটি তাই কেবল শান্তি আলোচনা নয়, বরং সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকেও ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপ ও আমেরিকার দ্বিমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যুদ্ধ অবসানের একটি গ্রহণযোগ্য পথ খুঁজে পাওয়াই এখন বিশ্বনেতাদের মূল লক্ষ্য।