তার মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নিজস্ব একটি সুনির্দিষ্ট শান্তি পরিকল্পনা থাকা জরুরি, যা আমেরিকার প্রস্তাবের পাশাপাশি আলোচনার টেবিলে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা যেতে পারে। এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে প্রস্তাবিত একটি শান্তি পরিকল্পনার খসড়া ফাঁস হওয়ার পর ইউরোপজুড়ে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। ওই বিতর্কিত প্রস্তাবে দনবাস অঞ্চল রাশিয়াকে ছেড়ে দেওয়া, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী সীমিত করা এবং ন্যাটোতে যোগদানের স্বপ্ন ত্যাগ করার কথা উল্লেখ ছিল, যা স্পষ্টভাবে রাশিয়ার পক্ষে যায়।
এই ঘটনা ইউরোপীয় নেতাদের ও ইউক্রেনকে শঙ্কিত করে তোলে এবং তারা বুঝতে পারেন যে, আলোচনার টেবিলে তাদের নিজস্ব জোরালো অবস্থান নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় সামরিক ও আর্থিক দাতা হওয়া সত্ত্বেও শান্তি আলোচনায় ইউরোপের অনুপস্থিতি এবং প্রভাবহীনতা বারবার প্রকট হয়ে উঠছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সোমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে সাক্ষাতের পর জোর দিয়ে বলেছেন, ইউরোপীয়দের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো চুক্তি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তার মতে, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইউরোপীয় নেতাদের অবশ্যই আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে হবে।
ওয়াশিংটনের একপাক্ষিক পদক্ষেপের ফলে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে জেনেভায় তড়িঘড়ি করে একটি ‘সংশোধিত শান্তি কাঠামো’ তৈরি করা হয়েছে, যা মঙ্গলবারের আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। আন্দ্রিউস কুবিলাস সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শান্তির উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও তা যেন ন্যায়সংগত ও দীর্ঘমেয়াদী হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
একটি দুর্বল বা একপাক্ষিক চুক্তি কেবল ইউক্রেন নয়, পুরো ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, রাশিয়া আগামী বছরগুলোতে ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’ বা সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতি পরীক্ষা করার দুঃসাহস দেখাতে পারে।
এছাড়া, রাশিয়ার জব্দ করা প্রায় ২০০ বিলিয়ন ইউরোর সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবকেও তিনি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে বেলজিয়ামের কিছু আইনি ও অর্থনৈতিক আপত্তির কারণে এই পরিকল্পনাটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। আগামী ১৮ ডিসেম্বর ইইউ নেতাদের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।